
এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
এডভোকেট অজয় ভট্রচার্য্য। সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানার লাউতা গ্রামে বাড়ী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাহার রচিত “নানকার বিদ্রোহ” নামে ৩টি বহি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত। “নানকার বিদ্রোহ” আন্দোলনের মহানায়ক। ১৯৪৯ সালে জমিদারী প্রথা উচ্চেদ, প্রজাম্বত্ব আইন ও সাধারন জনগণের অধিকার প্রতিষ্টার দাবীতে বিয়ানীবাজার এর তিলপারা ইউনিয়নের শানেশ্ব্র গ্রামথেকে অজয় ভট্টাচার্য্যরে নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। জমিদারের পেটুয়া বাহিনী অস্ত্রদারীদের সাথে কৃষক শ্রমিকগণ নিরস্ত্র অবস্থায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। কৃষক শ্রমিকদের জমিদারের পেটুয়াবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ৬ জন শ্রমিক ঘটনাস্থলে নিহত হন। অজয় ভট্টাচার্য্যরে আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন কমরেড বরুন রায়, কমরেড মনি সিং প্রমুখ। উল্লেখ করা প্রয়োজন কমরেড মনি সিং এর নিকটাত্মীয় বর্তমান অন্তরবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্টা হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্টার পর সিলেটের কৃতি সন্তান অজয় ভট্টাচার্য্য বুঝিয়ে দেন আন্দোলন কাহাকে বলে ? সেই আন্দোলনের সাহসিকতা দেখে তৎকালীন আইন মন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে এম ফজলুল হক “সি প্লেন” নিয়ে ঐতিহাসিক শানেশ্বর গ্রামের মৃত ও আহত ব্যক্তিদের দেখতে আসেন এবং ঘোষনাদেন সংসদে আইন পাশ করে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করা হবে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ক্ষমতাসীন হলে পবিত্র সংসদে জমিদারী বিলুপ্ত করন আইনটি পাশ করা হয়। ঘোষনা করা হয়, দখল যার ভূমি তার। সেই ঘোষনার আলোকে ১৯৫৬ সালে এস.এ রেকর্ড এর মাধ্যমে মালিকানা চিহ্নিত করন করা হয়। রক্তের বিনিময় বিয়ানীবাজারবাসী তথা জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ করা প্রজাম্বত আইন বলবৎ করতে সক্ষম হয়েছে।বাংলাদেশের জনগণকে এডভোকেট অজয় ভট্টাচার্য্যে দেখিয়ে দিয়েছেন অধিকার কিভাবে প্রতিষ্টিত করতে হয়।
পাকিস্তার রাষ্ট প্রতিষ্টার পর ১৯৪৮ সালের ৩রা জুন ঢাকায় এ.আর খানের বাসায় আওয়ামী মুসলিমলীগ প্রতিষ্টা করা হয়। প্রতিষ্টাতা সভাপতি হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। সাধারন জনগণের ন্যায্য দাবী আদায়-ই হচ্ছে তাহার দলের অন্যতম আদর্শ। সি.এস.পি অফিসার ও তাহাদের অধীনস্ত ব্যক্তিরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পবিত্র সংসদের মাধ্যমে সাধারন জনগনের পক্ষে আইন পাশ করিবেন। আর আমলারা সেগুলো নির্দিষ্ট বেতনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করিবেন । কারন সাধারন জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ইজটঊঈঅঞঊ দের বেতন ভাতা প্রদান করা হয়। সুতরাং রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি হচ্ছেন সাধারন জনগন। সাধারন জনগনের অধিকার ক্ষুন্ন হলে মাওলানা আব্দুল হামিদ খানের নেতৃত্বে অগনিত নেতৃবৃন্দ আমলার কার্যালয়ে উপস্থিত হতেন এবং সাধারন জনগণকে কেন হয়রানি করা হল কৈফিয়ৎ তলব করতেন। আমলার আচরনে অসন্তুষ্ট হলে তাহাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতেন, “ওয়ালাইকুমুসসালাম”। রাজপথেদেখা হবে। খেলা হবে মাটে। হালের রাজনীতিকে জনগণের রাজনীতি বলা যায় না । নতুন আমলা যুগদানের পর দলে দলে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দাওয়াত দিতে দিতে শেষ।কেহ কেহ ফুল দিয়ে ভরণ করে নেন। আমলাবেচারা মহাব্যাস্ত। কত সম্মান। খুশি হয়ে কিছু ব্যক্তিকে চয়েস করে বা বসে নিলেই রামরাজত্ব প্রতিষ্টা সম্ভব। আমলা সেই কৌশলটি বেছে নিয়ে থাকে। আমলার মূখ্যপাত্র হিসাবে এসব রাজনীতিবিদরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আমলা খুশি হয়ে বলেন “ন টেনশন”। মুখপাত্রযে যার মতো বলতে থাকেন, আমলা কিন্তু আমাদের মতাদর্শেরলোক। তাহাকে ডিস্টার্ব করা যাবে না। শুরু হলো আমলা দ্বারা সাধারন জণগণকে নির্যাতন। স্বল্প সমযে আমলা স্থির করে ফেলল এখানেই আখের গোছানো শেষ করতে হবে। যাহারা আমলার বিরুদ্ধে মিছিল মিটিং করিত, তাহারাতো সকলেই আমলার মুখপাত্র। সুতরাং নির্ভয়ে আখের গোছাতে ব্যতিব্যাস্ত। যেমনঃ বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুস্তফা মুন্নার অফিসের সি.সি ক্যামেরা নিরপেক্ষ ব্যক্তি কর্তৃক সার্চ করিলেকে দিনে কতবার কি কাজে আসিয়া ছিলেন তাহা জানা অত্যন্ত সহজ।
কথিত নেতৃবৃন্দ নির্বাহী কর্মকর্তার দাওয়াতপেলে সভাস্থলে তাড়াতাড়ি চলে আসেন। দাওয়াতি মেহমান অনুষ্টান স্থলে উপস্থিত হলে কোন বৈষম্য থাকার কথা নহে। কিন্তু দাওয়াতকারী ব্যাক্তি জনাব মুস্তফা মুন্না (জমিদার) বিরাট চেয়ারে বসলেন। আগত অতিথিরা যে যার মতো করে বসার ব্যবস্থা করলেন। হুংকার দিয়ে বললেন, বিয়ানীবাজারপৌরসভাধীন বাজারে কোন জানযট সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে মালামাল সব সিজ করে নিয়ে আসব। কই! বাজারে আগে ছিল কিছু অংশে জানযট। এখন অঘোষিত সম্পূর্ন বাজারই জানজটের আওতাভুক্ত। সভার জমিদার যে বৈষম্য জনক ভাবে অতিথিদেও চেয়ারে বসালেন, সেই সভা থেকে সকলকে অবজ্ঞা করে জমিদারী চেয়ারে বসে হুংকারজনক ভাবে জানযট নিরসনের নির্দেশ দিলেন। কি কিছু করতে পেরেছেন ? ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে ব্যক্তিগত ভাবে পরিচয় না থাকলে ও তাহার নিজ থানার কিছু লোকের সাথে পরিচয় থাকার সুবাধে জানতে পারলাম তিনি একজন ভদ্র মানুষ। উচ্চ শিক্ষিত পরিবারের সন্তান।
অথচ আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মধ্যে মনে হয়েছে বিনয়ে ঘাটতি আছে। যে ভদ্রলোক ১৯৮৪ সালে এসএসসি পাশ করে দায়িত্বশীল চেয়ারে বসে সততার সাথে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করিতেছেন সেই লোকটিকে রেজুলেসনের খাতা ছুড়ে তাহার উপর মারলেন। ঐ ভদ্রলোকটির পরিবারে ২০/২৫জন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্টানে চাকরী করিতেছেন। ত্রæটি থাকলে সম্মানজনক ভাবে বলতেন, ঐটা সংশোধন করে নিয়ে আসেন। যেখানে আর্থিক বা অনৈতিক ব্যাক্তি স্বার্থ ছিল না । জনৈক মেম্বার নদী থেকে নৌকা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চাহিদা পূরন করার জন্য সামান্য বালু উত্তোলন করেন সরকারী নদী থেকে। ঐ ভদ্রলোকটিকে তাহার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, নদী থেকে বাল তোলা বন্ধ না করলে …..। , অপমানজনক এসব কথা বললেন অনেক লোকের উপস্থিতিতে।
ড: আলী ইমাম মজুমদার মহোদয়। সিলেটের জেলা প্রশাসক ছিলেন। সেই সময় থেকে কেবিনেট সেক্রেটারী পর্যন্ত ব্যাক্তিগতভাবে কাছ থেকে তাহার আচরন উপলব্ধি করেছি। জনাব ইমাম অত্যন্ত স্বজ্জন, ভদ্র, ন¤্র অমায়িক ব্্যবহারের মাধ্যমে প্রত্যেককে অত্যন্ত সহজেই আপন করে নিতেন। এটা হয়ত পারিবারিক শিক্ষার কারনে হয়েছে। কারন তাহার বংশের উপাধি মজুমদার। জনাব মজুমদারের গুনাবলীর কারনে বর্তমানে অন্তরবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতেছেন।
ড: বদিউল আলম মজুমদার পেশায় অধ্যপক হলেও সামাজিক কর্মকান্ডের কারনে সারা বাংলাদেশের সাধারন জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি নাম। তিনি সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক। বিয়ানীবাজারের একটি অনুষ্টনে উপস্থিত হয়ে অনুষ্টানের উপস্থিত সকলকে আপন করে নিয়েছেন। পারিবারিক শিক্ষা ও বংশমর্যাদার কারনে তাহা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে অন্তরবর্তীকালীন সরকার নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দায়িত্ব প্রদান করা হইয়াছে।
ব্যাক্তিগতভাবে আমাদের বিয়ানীবাজারের ইউএনও জনাব গোলাম মস্তুফা মুন্না সম্পর্কে আমার জানাশুনা নেই। প্রশাসনে ঘোরঘোর করা আমার পেশা নহে। সাধারন মানুষের কথা বার্তা শুনে মনে হলো ওই ব্যক্তির সাথে দেখা হওয়া প্রয়োজন। এস.এস.সি পাশ করেছি ১৯৮৫ সালে। এম.এস.এস (ঢা:বি:), এবং এল.এল বি পাশ করে প্রায় ২৫বছর যাবৎ সিলেট জজকোর্ট উকালতি পেশায় নিয়োজিত। আইনজীবি ব্যাতিত নোটারী পাবলিক হিসাবে কর্মরত। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসাবে সিলেট জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পরিচালক ও সম্পাদক হিসাবে নয় বছর দায়িত্বরত ছিলাম। পেশাগত ব্যস্ততার কারনে সেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেলাম উপজেলার প্রায় ১৪৫টি কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতেছেন জনাব মুন্না। জানার আগ্রহ হলো। এত গুরু দায়িত্ব কিভাবে পালন করিতেছেন। জনাব মুন্না সাহেব এসএসসি পাশ করেছেন ২০০৮সালে। ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের তথাকথিত বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। পেতেই পারেন। আমার সে ব্যপারে জানার কোন আগ্রহ নেই। সরকারি বিধি মোতাবেক অর্পিত সম্পত্তি লিজ নিয়ে নিয়মিত লিজ মানি পরিশোধ করিয়া আসিতেছি। জেলা প্রশাসক বরাবরের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এককালীন উপযুক্ত টাকা পরিশোধের মাধ্যমে আমার বরাবরে হস্তান্তরের জন্য আবেদন করিয়াছি। বিভিন্ন জনের কাছে হুমকি দিয়ে বলিতেছেন, আমার নাকি বড় ধরনের ক্ষতি করিবেন।
স্মরণ করতে চাই, ক্ষমতাধর নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মুন্নার নিকট সকাল ১০ ঘটিকার সময় ফোনের মাধ্যমে অঢ়ঢ়ড়রহঃসবহঃ চাইলাম। বললেন ১০:৩০ ঘটিকার সময় আসেন। ১০:৩০ ঘটিকার সময় তিনি ফোনে জানালেন ১১:৩০ (সকাল) ঘটিকার সময়ে আসেন। ১১:৩০ মিনিটে নিজেফোন দিলাম। বললেন ২টার পরে আসেন। ২টার পরেফোন দিলাম বললেন ৪ ঘটিকারসময় আসেন। ৪ ঘটিকায়ফোন দিলাম, উত্তরে বললেন আমি একটু বাহিরে আছি।সন্ধার পরফোন দিলাম, উত্তরে বললেন আমি বাসায় আছি। তাহলে কি একটু বাসায় আসতে পারি ? উত্তরে হ্যাঁ বললেন। বাসার সিকিউরিটি গার্ড এর সম্মূখে………………….। আমার কোন ব্যাক্তিগত কাজ ছিল না। শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ। মনে হল-তরুণ এই ব্যক্তিকে বিনয়ী হওয়ার পরামশর্ দেয়া উচিত। অন্তত:পক্ষে তার চেয়ে নাগরিক হিসেবে সিনিয়র হওয়ায় এই উপদেশ দেয়া প্রয়োজন। সরাসরি দিতে গেলে আবার যদি তিনি মাইন্ড করেন। তাই লিখেই প্রশাসনের এই কর্মকর্তাকে আরোও বিনয়ী হওয়ার অনুরোধ করলাম। ইউএনও’র এসব কর্মকান্ডের স্বাক্ষী কেহ দিবে না। তবে আমার সাথে আল্লাহ প্রদত্ত বিনা বেতনে দুইজন স্বাক্ষী আছেন। বর্ণনা সমূহের স্বাক্ষী এই ২ জন। তবে বাস্তবে নহে। জনাব মুন্না সাহেবের সাথে পূর্বের কোন পরিচয় রাগ, অভিমান কিছুই ছিল না। কেবল রমজানে এই দোয়া করি-বিনয় ভূষণ করে কেউ কখনো প্রতারিত হয়নি।
চলবে…………………….
লেখক, সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। বিয়ানীবাজার, সিলেট। মোবাঃ ০১৮১৯-১৭৬২১৭
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার