গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পরও ওয়াশিংটন তাদের এই কঠোর অবরোধ নীতি বজায় রাখার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, উন্মুক্ত সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের যে স্বাধীনতা ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইনে নিশ্চিত করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করছে।
মস্কোর মতে, কোনো দেশই অন্য কোনো দেশে নিবন্ধিত জাহাজের ওপর এভাবে শক্তি প্রয়োগ করার অধিকার রাখে না। রাশিয়ার পাশাপাশি চীনকেও ভেনেজুয়েলা থেকে দূরে রাখতে ওয়াশিংটন বর্তমানে কৌশলগত চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডার ও শাসনব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে আমেরিকার হাতেই থাকবে।
উল্লেখ্য যে, ভেনেজুয়েলার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। মাদুরোকে অপহরণ করে নিউইয়র্কের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একের পর এক তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আসলে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি তেলের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এই পরিস্থিতি কেবল লাতিন আমেরিকায় নয়, বরং আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।