Daily Jalalabadi

  সিলেট     বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২১শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসন: দেয়ালের ভাষা নিউজফিডে, পোস্টার থেকে পেজে

admin

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসন: দেয়ালের ভাষা নিউজফিডে, পোস্টার থেকে পেজে

বিয়ানীবাজার সংবাদদাতা:
নির্বাচনী প্রচারের চেনা দৃশ্যপট বদলে গেছে। দেয়ালজুড়ে স্লোগান, অলিগলিতে পোস্টারের জঙ্গল—এবার আর এসব দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের বিধিতে পোস্টার ও দেয়াললিখন নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রার্থীরা বাধ্য হচ্ছেন প্রচারের ধরন পাল্টাতে। সেই শূন্যতা পূরণ করছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদভিত্তিক, বিনোদন বা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট। সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনেও প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুককে প্রচারণার ক্ষেত্র বানিয়েছেন।

এই আসনের প্রার্থীরা পোস্টার ছাপা, দেয়াল রং, ব্যানার লাগানোর খরচ কমিয়ে সেই অর্থ ঢালছেন ডিজিটাল মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট তৈরি, পেজ ম্যানেজমেন্ট, ডেটা বিশ্লেষণ—সব মিলিয়ে গড়ে উঠছে আলাদা একটি ‘ডিজিটাল টিম’। ডিজিটাল প্রচারের এই বিস্তার নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেও এর ব্যয়, স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনে মোট ৫ জন প্রার্থীপ্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরমধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে বেশী সক্রিয় প্রধান দুই প্রতিদ্বন্ধি বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী ও জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তাদের সাথে টেক্কা দিয়ে ভালোই এগোচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ ফখরুল ইসলাম।বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী মোবাইল ফোনে ভয়েজ রেকর্ড করে নিজ প্রতীকে ভোট চাইছেন। গত ৩-৪দিনে তার পক্ষে প্রায় দেড় লক্ষ ভোটারের কাছে ধানের শীষে ভোট চাওয়া হয়েছে।

প্রার্থীদের এই ডিজিটাল প্রচার কীভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এটা (ডিজিটাল প্রচারণা) বাস্তবতা। ভবিষ্যতে এগুলো আরও ব্যাপকভাবে হবে। এগুলো নজরদারি করা দরকার। কারণ, ডিজিটাল প্রচারমাধ্যম অপব্যবহার হতে পারে। তাই এগুলোর ব্যাপারে আমাদের নির্বাচন কমিশনে একটা ইউনিট থাকা দরকার, যারা এগুলো মনিটর করবে।’

এই আসনের প্রার্থীদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। প্রচারের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে কর্মীও নিয়োগ দিচ্ছেন প্রার্থীরা। কেউ কেউ এর পেছনে দেদার অর্থ ব্যয় করছেন।

প্রার্থী বা দলের নিজস্ব পেজ ছাড়াও বিভিন্ন নামহীন বা ছদ্মনামের পেজ, প্রোফাইল ও গ্রুপ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা-অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীরা কীভাবে প্রচার চালাবেন, তা বিধিমালায় উল্লেখ আছে। তাঁরা সেটা মানছেন কি না, তা দেখা হবে।’

ডিজিটাল মাধ্যমে ভোটের প্রচারের প্রভাব সম্পর্কে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রহীম বলেন, যেকোনো বিষয়ের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক দিকও থাকে। ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারও এর ব্যতিক্রম নয়। দেয়াললিখন, পোস্টারের মাধ্যমে প্রচারের চেয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারের সুবিধা বেশি। এই মাধ্যমে কিছু ঝুঁকিও অবশ্য রয়েছে। তবে সেগুলো মোকাবিলার পথ বের করে এই মাধ্যমে প্রচারকে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার

শেয়ার করুন

Follow for More!