উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দাবি, শনিবার দুপুরে মহিলা জামায়াতের ১০-১২ জন কর্মী নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে ভোট প্রার্থনা করতে যান। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। খবর পেয়ে যুব জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের উপর এসএস পাইপ, বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে হামলা করেন। এতে তাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক মুস্তাকিম হাসান অভিযোগ করে বলেন, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে আগে থেকেই বিএনপির কিছু নেতাকর্মী জোট পাকানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় সেখানে জামায়াতের মহিলা কর্মী এবং তারা দাঁড়িপাল্লার ভোট চাইতে গেলে তাদের উপর হামলা করা হয়। এতে মুস্তাকিম হাসান, যুব জামায়াত কর্মী জহিরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, জামায়াত কর্মীরা বুলেটপ্রুপ জ্যাকেটের মতো পোশাক পরে তাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করেছে। জায়ামাতের নেতাকর্মীদের হামলা ঠেকাতে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
যশোর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নী জানান, জামায়াত কর্মীরা বুলেটপ্রুপ জ্যাকেটের মতো পোশাক পরে প্রস্তুতি নিয়ে এসে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা করেছে। তারাই ঘটনার সূত্রপাত করেছে।
এদিকে দুপুরে এই ঘটনার পর বিকেলে ঝিকরগাছা বাজারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামীর নারী সদস্যরা। উপজেলা মোড়ে অবস্থিত দারুল উলুম কামিল মাদরাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ড ঘুরে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
ঝিকরগাছা থানার ওসি দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।