Daily Jalalabadi

  সিলেট     মঙ্গলবার, ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২০শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে দুই ওলির মাজারে মুসল্লিদের ভিড়, পালিত হচ্ছে শবে বরাত

admin

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:১২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:১২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে দুই ওলির মাজারে মুসল্লিদের ভিড়, পালিত হচ্ছে শবে বরাত

স্টাফ রিপোর্টার:

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সিলেটে পালিত হচ্ছে পবিত্র ‘লায়লাতুল বরাত’ বা শবে বরাত। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সূর্যাস্তের পর থেকে মুসলিম উম্মাহ পবিত্র শবে বরাত পালন করছেন। পবিত্র এ রজনী পালন চলবে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত।

প্রতিবছরের মতো এবারও পবিত্র শবে বরাতে সিলেটের দুই ওলির মাজারে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই নগরীর দরগাহ গেইট এলাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও খাদিমনগরের হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে হাজার হাজার মুসল্লী জড়ো হতে থাকেন। কেউ নফল নামাজ পড়ছেন কেউবা ওলির মাজার জিয়ারত করছেন।জানা যায়, প্রতি বছরেই শবে বরাত উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আসেন সিলেটের এই দুই ওলির মাজারে। এবারও এসেছেন তারা। এক মাজার থেকে আরেক মাজারে যাচ্ছেন এবং মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

সরেজমিনে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আল্লাহর ওলির এই দুই মাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাজারে প্রবেশের প্রতিটি গেইটে মুসল্লিদের উপস্থিতি। একদিকে মুসল্লিরা প্রবেশ করছেন অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মাজার মসজিদে ইবাদত করছেন, কেউবা মাজার জিয়ারত ও পার্শ্ববর্তী কবরস্থান জিয়ারত করছেন। মাজার এলাকায় ঘুরাঘুরিও করছেন অনেকে।

শবে বরাতের এই রাতকে কেন্দ্র করে মাজারের বাইরের দোকানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের টুপি, আগরবাতি, মোমবাতি, আতর গোলাপজল, তাসবীসহ নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও মাজারের প্রবেশপথগুলোতে সারিবদ্ধ ভিক্ষুক ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন জেলা থেকে ভিক্ষুকরা অধিক ভিক্ষা পাওয়ার আশায় এখানে এসে ভিড় জমান। ঝুলি নিয়ে বসে থাকা ভিক্ষুকদেরকে মাজারে আসা লোকজনও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থকরী দান করেন।

এছাড়া, দুই ওলির মাজার ছাড়াও সিলেট নগরীর মসজিদে মসজিদে দেখা যায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ভিড়। সন্ধ্যার পর থেকেই তারা মসজিদগুলোতে যেতে থাকেন। মহিমান্বিত এ রাতে আল্লাহর অনুগ্রহ ও নৈকট্য লাভের আশায় মুসল্লিদের নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন থাকতে দেখা যায়। অনেকে কবরস্থানে গিয়ে আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা করেন।

মুসল্লিদের অনেকে বলেন, তারা মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য মসজিদে এসেছনে। খোদা যেন তাদের ভালো রাখেন, তাদের পরিবারকে ভালো রাখেন। বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত রাখেন। সারাদেশের মানুষকে যেন ভালো রাখেন।
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে অনেকের বাড়িতে নানা রকম হালুয়া ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করা হয় খাবার।

প্রসঙ্গত, আরবি শাবান মাসের ১৫ তারিখ (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে ‘সৌভাগ্যের রাত’ হিসেবে পরিচিত। ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। তাই শাব্দিক অর্থে শবে বরাত অর্থ হলো মুক্তির রাত। এ রাতে বান্দাদের জন্য অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন পরম করুণাময়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 988 বার

শেয়ার করুন

Follow for More!