
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নির্ধারণে একটি গণভোটও হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ফলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এই নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।১৬ বছর ধরে চলা এক কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশে নানা পটভূমি ও ভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্বাসের মানুষকে একত্র করে। এরপর এবারের এই নির্বাচনে ভোটারদের বড় একটি অংশ জেনারেশন জেড বা জেন জি। অর্থাৎ দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্তে তরুণদের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রজন্মের অনেক ভোটারই বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, বিশেষ করে দলটির (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে।
ডিসেম্বরে পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছে। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত) পাচ্ছে ১৯ শতাংশ সমর্থন। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসালটিংয়ের আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ তারেক রহমান—যিনি বাংলাদেশে ‘টিআর’ নামেও পরিচিত—প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে মনে করেন। অন্যদিকে, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, জামায়াতের আমির প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
১৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক হয়রানির মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার এড়াতেই তাঁকে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকতে হয়েছিল।
তার জন্য নিয়োজিত বাসে করে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থাকার সময়ে বাসের ভেতরেই তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী কাজ করা সংবাদমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাট। সাক্ষাৎকারটি ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো –
দ্য ডিপ্লোম্যাট: মি. তারেক রহমান, সাক্ষাৎকারে আপনাকে স্বাগতম। সর্বশেষ ২০০৬ সালে নির্বাচনের সময় জেলা পর্যায়ে সফর করেছিলেন আপনি। দীর্ঘদিন ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগের পর এখন আবার সরাসরি জেলা সফর করছেন। প্রায় ২০ বছর পর কী পার্থক্য দেখছেন?
তারেক রহমান: তখন আমার কর্মসূচিগুলো মূলত দলীয় নেতা-কর্মীদের ঘিরেই ছিল। আমি মূলত দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেই দেখা করতাম। এখন সব বয়স ও সব শ্রেণির মানুষ অংশ নিচ্ছেন। মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা আমি স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।
এই সময়টা আমার জন্য আনন্দের। আমি উদ্দীপ্ত তরুণদের সঙ্গে দেখা করছি, কথা বলছি, সেলফি তুলছি। এটা আমার জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। আমি সত্যিই এই সময়টা উপভোগ করছি।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: দেশে জেন-জি নেতৃত্বাধীন দলও আছে। কিন্তু আপনি দেশে ফেরার পর তরুণদের আগ্রহ আপনার দিকেই বেশি দেখা যাচ্ছে। কেন?
তারেক রহমান: আমরা জেন জি-র চিন্তাভাবনার সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং শ্রমবাজার — এসব বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আমার বিশ্বাস, এসব বিষয় জেন জি-র সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
আজকের সমাবেশের দিকে তাকালেই দেখবেন, উপস্থিতদের বড় অংশই জেন জি। ‘দ্য প্ল্যান’ নামে একটি কর্মসূচির মাধ্যমে আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও পটভূমির শিক্ষার্থীদের কথা শুনি। তারা তাদের ভাবনা, উদ্বেগ ও ধারণা তুলে ধরে। তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে আমি সত্যিই উপভোগ করি।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: এই জনপ্রিয়তা কি আপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে?
তারেক রহমান: আমি জনপ্রিয়তাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখি। এতে আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় বলে আমি মনে করি।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: তবে জেন জি-র একটি অংশ — ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি বা এনসিপি — আপনার বিরোধিতা করছে। তারা সংসদে এবং রাজপথে আপনাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে। এই চ্যালেঞ্জ কতটা অনুভব করছেন?
তারেক রহমান: আমি কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করছি না। আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি, অন্যরাও তা-ই করছে। মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে কোন পরিকল্পনা তাদের জন্য ভালো। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করব। এই তো! আমার অঙ্গীকার জনগণের প্রতি। তারাই আমার শক্তি।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনি বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটাকে কি কল্পনাপ্রসূত মনে হচ্ছে? (২০২৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন বা ৪৭৫০০ কোটি ডলার)। কম মজুরি ও পোশাকশিল্পনির্ভর অর্থনীতিতে এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত?
তারেক রহমান: এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে দুটি বড় ভিত্তির ওপর — পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়। এই দুটি খাত বিএনপি সরকারের সময়ই গড়ে উঠেছিল।
আমরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেব। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, জুতা শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতেও নজর দেওয়া হবে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ খাদ্য খাতেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা পর্যাপ্ত মাছ ও সবজি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও আমরা খতিয়ে দেখছি।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক ঋণের ৩৬ শতাংশ খেলাপি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, হাসিনা সরকারের ১৫ বছরে প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এমন বাস্তবতায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন কীভাবে দেখেন?
তারেক রহমান: আপনি যে ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারের কথা বলছেন, সেগুলো ঘটেছে আগের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে। সরকারই এসব অনিয়ম উৎসাহিত করেছিল। এবং এগুলো করা হয়েছে জনগণের অর্থ নিয়ে। সেখানে কোনো স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি ছিল না। জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা না থাকায় তারা এসব করেছে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: তাহলে কীভাবে নিশ্চিত করবেন, আপনার সরকার একই পথে হাঁটবে না?
তারেক রহমান: আমরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে চাই। আমরা জনগণের সরকার হতে চাই। জনগণের সরকার হয়ে জনগণের অর্থ লুট হতে দেওয়া কীভাবে সম্ভব? জনগণই আমাদের জবাবদিহির মধ্যে রাখবে।
শক্ত আর্থিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব। আমাদের অঙ্গীকার হলো একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সবকিছু নির্ভর করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনগণ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা না গেলে দেশ দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার দিকে যাবে। এতে বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাও ব্যর্থ হতে পারে।
তারেক রহমান: অন্তর্বর্তী সরকারের পরিচয় তার নামেই স্পষ্ট — এটি একটি স্বল্পমেয়াদি সরকার। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের চরিত্র আলাদা। সে সরকারের হাতে থাকে বৈধ কর্তৃত্ব এবং জনগণের শক্তি।
আমরা আইনশৃঙ্খলাকে এমন জায়গায় নিতে চাই, যাতে মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। মানুষ যেন রাতে ভয় ছাড়াই ঘরে ফিরতে পারে। অর্থনীতি যেন স্বাভাবিকভাবে চলে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও রাজনীতিতে পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠা করব। আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করব এবং সবার মানবাধিকার নিশ্চিত করব।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: সাক্ষাৎকারের আগে আমি দেশের দুজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রশ্ন নিয়েছি। প্রথম প্রশ্নটি হলো — আপনি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়, আপনার ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করবে কে? যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘উইনার টেইকস অল’ প্রবণতা রয়েছে! দ্বিতীয় প্রশ্ন — ক্ষমতায় গেলে আপনি কি সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেবেন? আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়ে নেই।
তারেক রহমান: প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিই। বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একদলীয় ব্যবস্থা বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০১ সালে সংসদে আমাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল, তবু আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করিনি। গণতন্ত্র আমাদের দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই জবাবদিহির ভিত্তি।
দ্বিতীয় প্রশ্নে আমি পুরোপুরি একমত নই যে দেশে কোনো প্রতিষ্ঠানই গড়ে ওঠেনি। কিছুটা হলেও প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছিল, নইলে অতীতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হতো না। তবে গত ১৭ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনে অনেক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও রাজনৈতিককরণ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে প্রতিষ্ঠানও শক্তিশালী হবে।
আমরা নিজেরাই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক গ্রেপ্তার, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শিকার। তাই আমরা একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে চাই, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে চাই এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই — যেখানে প্রতিটি মানুষ পূর্ণ অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে সম্মান পাবে। ভিন্নমত ও ভিন্ন ধর্মের মানুষ ন্যায়, সমতা ও সুবিচার পাবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: হাসিনা সরকারের সময় ভারতের দিকে ঝুঁকে থাকা পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত — সবাই বাংলাদেশের দিকে নজর রাখছে। আপনার পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে?
তারেক রহমান: আমার সঙ্গে ২০ কোটি মানুষ আছে। ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হবে এবং দেশের সর্বত্র ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশে সহায়তা করতে হবে। আমরা যে দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখি না কেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থই হবে অগ্রাধিকার।
আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট।’ অর্থনীতি-কেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও লাভ — এই নীতির ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনার জলবায়ু নীতিগুলো প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু ঢাকায় বিপুল সংখ্যক অভ্যন্তরীণ জলবায়ু উদ্বাস্তুর সমস্যা রয়েছে। আপনি যে অঙ্গীকারগুলোর কথা বলছেন, সেগুলো বেশ উচ্চাভিলাষী মনে হয়। বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব?
তারেক রহমান: আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেব। বাস্তবতা হলো ভয়াবহ। একসময় ২০ ফুট খনন করলেই ভূগর্ভস্থ পানি পাওয়া যেত, এখন ৩০০ ফুট খনন করেও অনেক সময় পানি মেলে না। সে কারণেই পাল্টা প্রশ্ন ওঠে এটা কি আসলে ‘অতি উচ্চাভিলাষী’, নাকি ‘সময়ের প্রয়োজন’?
আগের কর্তৃত্ববাদী সরকার সুন্দরবনে গোলপাতা লাগানোর প্রকল্প নিয়েছিল। সেখানে একটি চারা কেনার জন্য বরাদ্দ ছিল ৮ টাকা, অথচ বহনের খরচ দেখানো হয়েছে ১০ টাকা। এতে বোঝা যায়, কোথায় ও কীভাবে জনগণের অর্থ অপব্যবহার হয়েছে। জলবায়ু খাতসহ সব খাতে দুর্নীতি রোধ করতে হবে — এ বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের অর্থের অপচয় বন্ধ করতে পারলে জলবায়ু খাতে কার্যকর বিনিয়োগ সম্ভব হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। আমাদের শুরু করতেই হবে — কারণ শুরু না করলে কোনো পথই নেই। আমরা দায়িত্বশীলভাবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা করব এবং গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ড থেকেও অর্থ সংগ্রহ করব।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: এমন একটি প্রধান অঙ্গীকারের কথা বলুন, যেটি ক্ষমতায় গেলে বাস্তবায়ন করবেনই। যেটি পাঁচ বছরে করতে পর না পারলে আমরা আপনাকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে পারব।
তারেক রহমান: আমরা আমাদের ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করব। বিশেষ করে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা — এই সাতটি বিষয়কে আমরা মূল অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছি।
মানুষের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনব। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই আমরা প্রাধান্য দেব। জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করাই আমার দেশের মানুষের প্রতি অঙ্গীকার।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 990 বার