
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাথর কোয়ারি অধ্যুষিত সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনের ভোটারদের মূল দাবি কোয়ারি খোলে দেওয়া। দাবিটি এবারের নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটারদের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থীদের কাছ থেকে বন্ধ থাকা কোয়ারি খোলার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি চান ভোটাররা। প্রার্থীরাও দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি।
গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী এক জনসভায় কোয়ারি খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি ও জমিয়ত জোটের প্রার্থী ও সিসিকের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “পাথর কোয়ারি নিয়ে আমি অনেকবারই বলেছি। নির্বাচিত হলে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি আমরা খোলে দেব, ইনশাআল্লাহ।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “যারা সন্ত্রাস করবে, চাঁদাবাজি করবে, দখলবাজি করবে, সিন্ডিকেট বানাবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।”
কোম্পানীগঞ্জের টুকেরবাজারে জনসভায় দেওয়া এই বক্তব্যের পর থেকে মানুষ পাথর কোয়ারি নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেছে। আরিফুল হকের কথায় মানুষ আস্থা রাখতে চাইছে। সবাই মনে করছেন, আরিফই এই কাজ করতে পারবেন।
জানা গেছে, সীমান্ত জনপদ এই আসনটিতে ভোলাগঞ্জ, জাফলং, বিছনাকান্দি, শিবপুরসহ বেশ কয়েকটি পাথর কোয়ারি রয়েছে। পরিবেশগত বিপর্যয়, জননিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজস্ব ক্ষতির কারণ দেখিয়ে বিগত সরকার সিলেটের কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এরপর বহু আন্দোলন কর্মসূচি হয়েছে, কোয়ারি আর খোলা হয়নি।
পাথর উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণনের সাথে সম্পৃক্ত লোকজনের দাবি— পাথর কোয়ারি বন্ধে বিগত সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল ‘জনবিরোধী’ ও ‘অন্যায্য’। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলেননি কিংবা কথা বলার সাহস করেননি সিলেট-৪ এর তখনকার এমপি ইমরান আহমেদ। জনশ্রুতি আছে, মন্ত্রীত্ব চলে যাওয়ার ভয়ে নাকি তিনি কোয়ারির পক্ষে কথা বলতেন না। ফলে, পাথর কোয়ারির ওপর নির্ভরশীল সিলেটের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ উপেক্ষিত থেকেছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহফুজ আহমদ বলেন, এই জনপদের মানুষ চেয়েছিলো পরিবেশ সম্মত উপায়ে, সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন চলুক। মানুষ বাঁচুক, পরিবেশও রক্ষা হোক। পরিবেশ রক্ষার নামে চিরতরে পাথর কোয়ারি বন্ধ হয়ে যাক কেউ চায়নি। এটা কোন সমাধানের পথ হতে পারে না।
উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি আব্দুল জলিল মেম্বার বলেন, “৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর আমরা হাইকোর্টসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বারবার ছুটে গেছি। সরকারের কিছু অংশ এবং প্রশাসনের তরফ থেকে কোয়ারি খোলার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলাম। কিন্তু শেষমুহুর্তে আমরা দেখলাম— পাথর কোয়ারি বন্ধে নেপথ্যের কারিগরদের কেউ কেউ আজও সক্রিয় আছেন। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এই সমস্যার সমাধান হয়নি।”
এদিকে, বাংলাদেশে এসেছে বহু কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর জাতীয় সংসদ নির্বাচন পাথরের জনপদ সিলেট-৪ এর ভোটারদের জন্য ভিন্ন এক তাৎপর্য বহন করছে।
ভোটারদের দাবি— এবারের নির্বাচন হচ্ছে পাথর কোয়ারি বন্ধে বিগত সরকারের নেওয়া হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন। লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচন। ব্যবসায়ীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। পাথর শ্রমিক, ব্যবসায়ী, ট্রাক শ্রমিক-মালিক, স্টোন ক্রাশার মিল মালিকসহ পাথরের ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত বা সুবিধাভোগী সবার মুখে হাসি ফোটাবার নির্বাচন।
তাই ভোটটা এবার তারা সঠিক জায়গায় দিতে চান। যাতে অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়।
ভোটারদের অনেকে বলছেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য যে, এই আসনের জন্য অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরীকে আমরা পেয়েছি। যিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের মেয়র থাকাকালে নগরকে গড়েছেন। এবার তিনি সিলেট-৪ আসনকে গড়ে তুলবেন।’
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার