Daily Jalalabadi

  সিলেট     শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৫ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুলিশের দুই বন্ধু ‘ডা কা ত’ : ফেঁসে যেতে পারেন এসআই কামরুল

admin

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৫:১২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৫:১২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
পুলিশের দুই বন্ধু ‘ডা কা ত’ : ফেঁসে যেতে পারেন এসআই কামরুল

স্টাফ রিপোর্টার:

ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলম (প্রত্যাহার) ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার সবসময় ব্যবহার করতেন গণঅধিকার পরিষদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক লিটন মিয়া ও জুনায়েদ আহমদ। তাদের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় এসআই মনির হোসাইন বাদী হয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া এবং ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণের অপরাধে মামলা দায়ের করেন।

তবে দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ অজ্ঞাতনামা ৭/৮জনকে আসামী করলেও এদের কোন পরিচয় এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে রহস্যজনক কারণে পুলিশের সরকারি ওয়াকিটকি ব্যবহারকারী ও প্রাইভেট করের মালিক এসআই কামরুল আলমকে আসামী না করেই দায় সেরেছে পুলিশ।
অপরদিকে, আসামীদের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর  রিমান্ডে থাকাকালিন সময়ে আসামিরা পুলিশের এসআই কামরুল আলম (প্রত্যাহার) ব্যাপারে কোন তথ্য দিলে তাকেও মামলার আসামী করা হতে পারে। কারণে উদ্ধারকৃত ওয়াকিটকি আর প্রাইভেটকারটি পুলিশ কামরুল আলমের। ডাকাতদের সহযোগীতা করার অপরাধে তাকে আসামি করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্র জানায়। তবে কামরুল আলমকে নিয়ে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অপরাধীদের সাথে তার সখ্যতার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে সরকারি ওয়াকিটকি, পুলিশের প্রাইভেট কার ও চাইনজি কুড়াল নিয়ে গ্রেফতার হওয়া কোম্পানীগঞ্জের তৈমুর নগর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে লিটন মিয়া ও একই উপজেলা কালাবাড়ি গ্রামের শৈইকুর রহমানের ছেলে বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুরো বিষয়টি জট খুলতে ইতোমধ্যে আমলি আদালত-৬ এ লিটন ও জুনায়েদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৫দিনের আবেদন করেছেন বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)।পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশের ওয়াকিটকি, প্রাইভেট কার ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তাদের গন্তব্যস্থল কোথায় ছিলো এবং তাদের সাথে আর কারা ছিলেন সেসব বিষয় পুলিশ রিমান্ডে জানতে চাইবে। একই সাথে পুলিশের ওয়াকিটকি তারা কিভাবে পেয়েছে কিজন্য এনেছেন সেটাও রিমান্ডে খতিয়ে দেখা হবে। রিমান্ডে প্রত্যাহার হওয়া এসআই কামরুল আলমের কোন সংশ্লিষ্টা পাওয়া গেলে তাকেও মামলার আসামী করা হতে পারে। কারণ মামলার এজহারে লিটন ও জুনায়েদ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ৭/৮জনকে আসামী করা হয়। এছাড়া মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারকৃত লিটন ও জুনায়েদ মালনিছড়া আবাদানি কালভার্টের পাশে অজ্ঞাত আরও ৭/৮জন একত্রিত হয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে শহরের দিকে যাচ্ছিলো।

মামলায় উদ্ধার দেখানো হয়েছে মটোরেলা কোম্পানীর ওয়াকিটকি (যার মডেল নং-AZHO2RDH9VA1AN) প্রস্তুতকারক মালেশিয়া। এছাড়া চাইনিজ কুড়াল ও প্রাইভেট কার (যার নম্বর-ঢাকা মেট্রো-গ ১৭-১৪২৯) যার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

পুলিশ জানায়, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট এলাকার বাইপাস রোডে চেকপোস্ট বসায় থানা পুলিশ। চেকপোস্ট চলকালে এসআই কামরুল আলমের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি আটক করে পুলিশ। এসময় কার তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের ওয়াকিটকি আর চাইনিজ কুড়ালসহ গণঅধিকার পরিষদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক লিটন মিয়া ও জুনায়েদ আহমদ আটক করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিটন মিয়া। অপরাধের জগত যেন তাদের একই। অপরদিকে জুনায়েদ আহমদ তাদের বন্ধু। তারা এলাকায় বালু, পাথর ও চোরাই মালামাল বহনকারী লাইনম্যান হিসেবে এলাকায় পরিচিত। পুলিশের ওয়াকিটকি আর প্রাইভেট কার নিয়ে তারা চোরাচালানের মালামাল ধরার জন্য রাতের বেলা নেমে পড়তেন রাস্তায়। পরিচয় দিতেন তারা পুলিশের লোক। রফাদফা না করলে চোরাচালানের মালামালসহ ধরে নিয়ে যেতেন এসআই কামরুল আলম। মোটা অংকের টাকার বিনীময়ে সড়কেই রফাদফা হয়ে গেলে চোরাচালানের মালামাল তারা নিরাপদে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করে দিতেন।

ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলম (প্রত্যাহার) বলেন, ‘ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার দুটিই আমার। এবং আটক লিটন মিয়া আমার বন্ধু। ওই গাড়িতে তিনিও তাদের সঙ্গে ছিলেন। হঠাৎ তিনি জানতে পারেন কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া এলাকায় সংঘর্ষের জন্য মানুষজন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই তারা পাড়ুয়া চলে যান। সেখানে গিয়ে তারা একটি দেশীয় কুড়াল পেলে সেটা গাড়িতে তুলে নেন। এরপর গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য লিটন ও জুনায়েদ চলে আসেন। তখন ওয়াকিটকি ও কুড়াল গাড়িতেই ছিল। গ্যাস আনতে যাওয়ার সময় তাদের আটক করে পুলিশ।’

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার

শেয়ার করুন