
স্টাফ রিপোর্টার:
বরগুনার বলেশ্বর নদী সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ট্রলিং ট্রলার এবং মাছসহ দুই জেলেকে আটকের পর একজন হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় ‘নদীতে লাফিয়ে নিখোঁজের’ দাবি করেছেন স্বজনরা।সর্বশেষ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ ওই জেলের সন্ধান মিলেনি। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চরদুয়ানী ইউনিয়নের জানপাড়া গ্রামের বান্দাঘাটা খাল থেকে তাদের আটক করা হয়।
‘এফবি আব্দুল্লাহ’ ট্রলারের মাঝি মাসুদ খলিফা (৪০) ও ট্রলারের মিস্ত্রী মো. মুনসুর মিয়া। দুজনেরই বাড়ি উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে।
নিখোঁজ জেলের স্বজনদের দাবি, আটকের পর ট্রলারসহ আটক দুই জেলেকে পাথরঘাটা কোস্টগার্ডের স্টেশনে নিয়ে আসার পথে রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মাসুদ মাঝি বিষখালী নদীতে ঝাঁপ দেয়। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কোস্টগার্ডের তরফ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়নি।বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বিপুল পরিমাণ মাছ এবং ট্রলারসহ মাঝি মাসুদ খলিফা ও মিস্ত্রী মুনসুরকে আটক করে কোস্টগার্ডের সদস্যরা। পরে কোস্টগার্ড ক্যাম্পে নিয়ে আসার পথে বিষখালী নদীতে হ্যান্ডকাফসহ লাফিয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ মাঝির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ মাঝি মাসুদ খলিফার স্ত্রী নুপুর বেগম বলেন, রাত ১২ টার দিকে কোস্টগার্ডের ৩ থেকে ৪ জন লোক বাসায় এসে তল্লাশি চালায় এবং আমার কাছ থেকে ভিডিওতে বক্তব্য নেয়।
ওই ট্রলারের অপর জেলে ইয়াছিন মিয়া বলেন, রাত সাড়ে ৬টার দিকে ট্রলারের কাছে এসে মাঝি ও মিস্ত্রীকে আটক করে। এ সময় কোস্টগার্ডের সদস্যরা মাসুদ মাঝির দুই হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে আমরা শুনলাম যে মাসুদ মাঝি নাকি ট্রলার থেকে লাফিয়ে পড়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি ও নিখোঁজ জেলের স্বজনদের দাবির প্রেক্ষিতে কোস্টগার্ডের স্টেশনের বোর্ড পুলে গিয়ে স্টেশন কমান্ডার কাওছারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, অফিসিয়াল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এই বিষয়ে বক্তব্য জানানো হবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, কোস্টগার্ডের অভিযান চালিয়ে মাছ, ট্রলার ও দুই জেলেকে আটক করে। মাসুদ খলিফা নামের একজন নদীতে ঝাঁপ দেয় এমন খবর পাওয়া গেছে। আটক ট্রলার ও জেলেদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 992 বার