
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুধীজনের সাথে দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৮শে ফেব্রুয়ারি) বেলা ২ টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) পলি রানী দেব এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট ৪ আসনের সংসদ সদস্য সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (এমপি)।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জৈন্তাপুর বাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সিলেট-৪ আসনের আপামর জনসাধারণ ভোটের মাধ্যমে যে রায় দিয়েছে তার পুরস্কার সরূপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন তা নিষ্টার সহীত পালন করবো।
এ সময় তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সরকারি সফরে জৈন্তাপুর আসায় শহীন উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জনপদ জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্মৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় একটি উপজেলা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির সুফল জৈন্তাবাসীকে পৌঁছে দিতে তিনি কৃষি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৭/৮ টি খাল খনন করার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান। পাশাপাশি পর্যটন খাতে উন্নয়নে জৈন্তাপুর উপজেলা অন্যতম পর্যটন স্পট ডিবিরহাওড় লালশাপলা বিলে ক্যাফেটোরিয়া,শৌচাগার, পার্কিং,রেস্টহাউজ, ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচিকে একটি সামাজিক বিপ্লব ও আন্দোলনে রূপ দিতে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নব গঠিত সরকার। আগামী ১৮০ দিনেই দৃশ্যমান হবে জনগুরুত্বপূর্ণ খাল-জলাশয় খনন কর্মসূচি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষি খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এই কর্মসূচিতে জৈন্তাপুর উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী খাল খনন করা হবে। শুধু কৃষি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নয় বরং প্রতি বছর ঘন ঘন পাহাড়ি ঢল থেকে সৃষ্ট বন্যা প্রতিরোধে খননকৃত খালগুলো যেন পরিবেশ সহায়ক হয় সেদিকে সরকার দৃষ্টি রাখবে। সিলেট -৪ আসনের মানুষ সৌভাগ্যবান কারণ আরিফুল হক চৌধুরীর মত একজন বলিষ্ঠ নেতা পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন তিনি তার যোগ্য। যেহেতু সিলেট বিভাগ প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এই দিক বিবেচনা করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গোটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের কল্যানে কাজ করে যেতে পারবেন। পাশাপাশি জৈন্তাপুর জনপদের মানুষ তাদের কাঙ্খিত উন্নয়নের সুফল তার হাত ধরেই পাবেন।
এর আগে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্পটে চলমান খালখনন কর্মসূচি এলাকা পরিদর্শন করেন দুই মন্ত্রী।
সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপন করেন মন্ত্রীদ্বয়। পরে চা শ্রমিক কৃষানীর হাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ভূর্তুকি মূল্য রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিন বিতরণ সহ সম্প্রতি সময় আগুনে পুড়ে যাওয়া দুই পরিবার ও দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢেউটিন ও ১৬ জন কর্মজীবী মহিলাকে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব, এ কে এম শাহাবুদ্দিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মসন সিংহ, সহকারী কমিশনার বিশ্বাস শাহরিয়ার আলম, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।
এ ছাড়াও জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, ১ নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলি, ৪ নং দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন, এবিএম জাকারিয়া, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মুহিবুল হক মুহিব, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসিম সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক প্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরে জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সেবার মানউন্নয়ন ও সরকারি এম্বুলেন্স চালু সহ জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক কোটা পূরণের জন্য মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 990 বার