Daily Jalalabadi

  সিলেট     রবিবার, ১লা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৬ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কীভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল সিআইএ–ইসরায়েল

admin

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ | ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
কীভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল সিআইএ–ইসরায়েল

স্টাফ রিপোর্টার:

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অভিযান–সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। হামলার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়, যা হামলার সময়সূচি পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে।

সূত্র জানায়, কয়েক মাস ধরে ইরান–এর সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান ও চলাফেরা নজরদারিতে রেখেছিল সিআইএ। সংস্থাটি জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরান–এর কেন্দ্রস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হবে। সেখানে খামেনিসহ জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক নেতৃত্ব উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

এই তথ্য পাওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার সময় পরিবর্তন করে। মূলত রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও বৈঠকের খবর পাওয়ার পর শনিবার সকালে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইসরায়েলের ধারণা ছিল, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন— মোহাম্মদ পাকপুর, প্রধান কমান্ডার, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি); আজিজ নাসিরজাদেহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী; আলী শামখানি, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান; সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, অ্যারোস্পেস ফোর্স কমান্ডার; মোহাম্মদ শিরাজি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী।

রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, হামলায় আলী শামখানি ও মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।

অভিযান শুরু হয় ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে। যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর, তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে কমপ্লেক্সে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র।

খামেনি একটি ভবনে এবং জাতীয় নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পাশের আরেকটি ভবনে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা দাবি করেন, এই হামলায় তারা ‘কৌশলগত চমক’ দিতে সক্ষম হয়েছে।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন এবং চাইলে তাঁকে হত্যা করা সম্ভব।

সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সে সময় ব্যবহৃত গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তথ্যই সাম্প্রতিক অভিযানে কাজে লাগানো হয়েছে। গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের সময় খামেনি ও আইআরজিসির যোগাযোগ ও চলাফেরা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।

খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানের নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে—কে হবেন তার উত্তরসূরি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল আসতে পারে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 986 বার

শেয়ার করুন