Daily Jalalabadi

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ৫ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ অতঃপর সংসদ নির্বাচন”

admin

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ | ০৪:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ | ০৪:০৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
“জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ অতঃপর সংসদ নির্বাচন”

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন :
ভূমিকা: আবু সাইদ, মুগ্ধ সহ প্রায় ১৪৬০ জন শহীদ ও অগনিত সাধারন ছাত্র জনতা আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। যেহেতু সাধারন জনগন তাহাদের পছন্দের প্রার্থীকে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করেছেন সংসদ সদস্য হিসাবে, সেহেতু নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নিকট নীতিগত ভাবে দাবী ও বেশী। সাধারন ভোটারগনের ব্যাক্তিগত চাওয়া পাওয়া তেমন একটা থাকে না। রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন ও জনস্বার্থে তাহাদের দাবী প্রকাশ্যে থাকবে। হয়ত অনেক সময় জনপ্রতিনিধি মনঃক্ষুন্ন হতে পারেন তাহাদের আচরনে। কিন্তু জনপ্রতিনিধির বোঝা উচিত এসব সাধারন জনগন-ই প্রকৃত পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়ার নিয়ামক শক্তি। লজ্জা লাগে অগনিত শহীদ ও আহতদের লাশের সাথে প্রতারনা করে কতিপয় স্বার্থান্বেসীরা ক্ষমতার স্বাদ গ্রহনের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারে যোগ ও দল গঠন করে অভ্যুত্থানের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন। অভ্যুত্থানের কতিপয় নেতা কিংস পার্টি খ্যাত এন.সি.পি গঠন ও সরকারের যোগ দিয়ে সকলেই দুর্নিতির সাথে জড়িয়ে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যেমের শিরনামে পরিনত হইয়াছেন। যেমন: আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হয়ত আরো অনেকের ব্যাংক হিসাব চাওয়া হতে পারে। আল্প বয়সে ক্ষমতায় না গিয়ে প্রেসার গ্রুপ হিসাবে থাকলে তাহাদের সকলকে নিশ্চিয়-ই সম্মান করতে বাধ্য হতেন নির্বাচিত যেকোন সরকার। কিন্তু এখন কি আর ঐ সব নেতাদের ডাকে সাধারন ছাত্র জনতা রাস্তায় প্রান দিবে। মোটেও না। কেননা ঐসব নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। ২০২৬ সালে প্রত্যেক দল-ই প্রার্থী নির্বাচনে ভূল করেনি। প্রত্যেক বিজয়ী প্রার্থী, পরাজিত প্রার্থীর পরিবারিক, সামাজিক মান মর্যাদা ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত কি না সব কিছু যাচাই করে প্রার্থী দিয়েছেন। সুতরাং শিক্ষা ও পরিবারের ঐতিহ্যকে ধারন করে এগিয়ে যাওয়ার কথা জনপ্রতিনিধিদের। দুর্নামের অংশিদার কোন প্রতিনিধি বা তাহাঁর পরিবার কিছুতে-ই চাইবেন না। যদি মুসলমান হন তাহলে প্রত্যেক প্রতিনিধির-ই বিশ্বাস আছে নেকির-মুনকির নামে দুইজন ফেরেশতা ২৪ঘন্টা সাথে থাকেন। কোন অনিয়মই আপনার দ্বারা গোপন করা সম্ভব নহে। সুতরাং সাধু সাবধান!

ভবিষ্যৎ সতর্কতী অবলম্বনের জন্য শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমন, সদ্য প্রয়াত মা-মাটি ও আদর্শের প্রতীক গনতন্ত্রে “মা” বেগম খালেদা জিয়া, মরহুম মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সহ এসব জাতীয় নেতাদের জিবনী পড়ুন এবং তাহাদের আদর্শে অনুপ্রানীত হওয়ার চেষ্টা করুন। বর্তমানে বিশ্বের আলোচিত নাম ও ১৭ বছর ক্ষমতার বাহিরে থেকে ও তৎকালীন সরকার আজরাইলের চেয়ে বেশী ভয় করিত জনাব, তারেক রহমানকে। দির্ঘ ১৭ বৎসর শত নির্যাতন দুঃখ দূরদশা এর মধ্যে ও তাহাকে পিতা-মাতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। ভবিষ্যতে ও করতে পারবে বলে মনে হয় না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মনে রাখতে হবে। দল নেতা তৈরী করে, নেতা কিন্তু দল তৈরী করেন না। যেমনঃ এক সময় বি.এন.পি এর প্রতিষ্টাতা সাধারন সম্পাদক জনাব, এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ, শমসের মুবিন চৌধুরী, কর্নেল (অবঃ) ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর, ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা সহ অনেক প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ। তাহাদের অবস্থান আজ আর সাধারন জনগনের মধ্যে নেই।

শত আশা ভরসা নিয়ে ২০২৬ সালের যেভাবে ভোটারগন নির্বাচিত করেছেন ভবিষ্যতেও এসব প্রতিনিধিকে নির্বাচনে জয়ি করতে চায় সাধারন জনগন। তবে তাহাদের কর্ম-ই বলে দিবে নির্বাচিত করা যায় কিনা? অতিথ সরকার এর ১৭ বৎসরের কার্যক্রম থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার তথা সংসদ সদস্যগনের উদ্দেশ্য কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরছিঃ

১ম প্রস্তাবঃ মুখোশধারী অভিনেতা, তেলবাজ, দান্দাবাজ, দল ত্যাগকারী, হিংসা, ক্লেশ অল্প সময়ে আপন জন ইত্যাদি গুনাবলী সম্পুর্ন মানুষকে এক কথায় চরিত্রহীন বলা যায়। তাহাঁরা সু কৌশলে আপনি যাহাদের নিকট দূর্বল তাহাদের সাথে মিশেবে এবং তাহাদের নিকট সর্বক্ষনিক প্রশংসা করবে। চাহিদা মোতাবেক পরিবারের সকল দায় দায়িত্ব নিয়ে আপনার অজান্তে সে ফ্যামিলির নিকট অতিগুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি হিসাবে গ্রহন যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। কারন সে মুনাফেক। মুনাফেক থেকে সাবধানতা অবলম্বন না করলে কঠিন বিপদে পড়তে পারেন। সুকৌশলে গাড়ি-বাড়ী, ব্যক্তিগত চাহিদা আপনার নিকটজনের মাধ্যমে সে প্রদান করতে সিদ্ধহস্ত। সহজ সরল ভাবে তাহাঁর আচরনে সন্তুষ্ট হয়ে তাহাকে আপন করে বিশস্ত বন্ধুদের কথা না শুনে ব্যক্তিগত অনেক বিষয়াদি শেয়ার করলেন। মুনাফিক তাহাঁর কাজ উদ্ধার করে আপনাকে বিপদে বা সমালোচনা বা পরিবারের মান সম্মান ক্ষন্ন করে তাহাঁর আখের গোছাবে। আপনি হবেন সমাজচ্যুত। সৎ মানুষ রাগী থাকে, অসৎ লোক অতিভক্তি করে ফায়দা হাসিল করতে চায়। যেমম: বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তাজ উদ্দিন আহমদ সকালে শেখ মুজিবুর রহমানকে খন্দকার মুশতাক আহমদ এর ষড়যন্ত্রের কথা জানালে তাজ উদ্দিন আহমদকে তিরষ্কার করেন। তাজ উদ্দিন আহমদের চেয়ে খন্দকার মুশতাককে তিনি বেশী পছন্দ করিতেন। কিন্তু খন্দকার মুশতাক-ই শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে নির্বংশ করার কাজটি সুকৌশলে সম্পাদন করিয়াছিল। নির্বাচিত প্রতিনিধি কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধি। বিশেষ ব্যক্তির প্রচারনা বা তোষামোদ আপনার প্রয়োজন নেই। জনাব, তারেক জিয়ার আদলে এসব দালালদের চিহ্নিত করুন এবং দালালী প্রচারনা বন্দ করুন।

২য় প্রস্তাব: যে কোন সংসদ সদস্যের জন্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। নিজের টাকা দিয়ে হলেও ব্যক্তিগত কার্যালয় বা সাধারন জনগনের সাহজে যোগাযোগ নিশ্চিত করনের জন্য নিজ টাকায় কার্যালয় ও একজন কর্মচারী নিয়োগ দিবেন। তাহাকে প্রতিটি কাজের জবাব দিহি করার ব্যাবস্থা রাখবেন। যেমন: কোন বিশেষ ব্যক্তি বিশাল শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কার্যালয় ও অত্যধুনিক সার্ভিস গ্রহন করলেন কিন্তু সাধারন ভোটার থেকে আপনি স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহন যোগ্যতা হারিয়ে শুন্যের কোটায় চলে যাবেন। ঐ অফিসের কর্তা ব্যক্তি সিন্ডিকেট তৈরী করবে এবং নামে বেনামে বিভিন্ন অপরাধ হবে। তাহাঁর সকল দায় দায়িত্ব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে-ই নিতে হবে। সুতরাং কোন বিশেষ ব্যক্তির আনুকুল্য গ্রহন করা মানেই তাহাঁর নিকট পচে যাওয়া। এ ধরনের আনুকুল্য সতর্কতার সাথে পরিহার করুন। মনে রাখবেন সু-সময়ে অনেক বন্ধু বটে অসময়ে হায় হায় কেহ কাহর ও নহে।

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বলতে চাই সাধারন জনগন যেহেতু দলের প্রতিনিধিকে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রদান করিয়াছে, সেহেতু শক্ত হাতে দলের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টি কারী, দলীয় পদ পদবীর জন্য দৌড় ঝাপ ও সাধারন কর্মিদের বিভ্রন্ত করার চেষ্টা করে তাহাদের চিহ্নিত করেন এবং প্রয়োজন মনে করিলে বহিষ্কার করতে পারেন। বি.এন.পি এর প্রতিষ্টাকালীন সময় থেকে সদস্য এবং যাহারা এখন ও বেচে আছেন তাহাদেরকে ইউনিয়ন ভিত্তিক চিহ্নিত করুন এবং মূল্যায়ন করুন। কারন রাগ অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে তাহাঁরা কিন্তু দল ত্যাগ করেনি। বরং দলের দুদিনে এরাই নিয়ামক শক্তি হিসাবে দলকে সাহায্য সহযোগীতা করে থাকেন। দল কৌশলে হাইব্রিড বা মলম পার্টির নেতারা যোগদান করে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভেংগে পদপদবী গ্রহন করে পরিক্ষিত নেতাদের অব মূল্যায়ন ও ব্যায়াদবির মধ্যমে অপমানজনক আচরন করে থাকে। জনাব তারেক জিয়ার ভাষায় এদের কে গুপ্ত হিসাবে চুহ্নিত করা অত্যন্ত সহজ। এরা দলের জন্য আশির্বাদ না হয়ে অভিশাপ হিসাবে কাজ করে থাকে। এসব নেতারা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার ও কোন যোগ্যতা নেই। এদের দলে যোগদানের তারিখ দেখলেই সহজে তাহাদের উদ্দেশ্য জানা সম্ভব। দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে ক্ষমতা দেখিয়ে চাদাবাজি-ই তাহাদের প্রধান কাজ। জনাব, তারেক জিয়া বলেছেন, “I have a plan…….” তাহাঁর কন্ঠে শুর মিলিয়ে আপনার এলাকার জনগনকে বলুন, “I have a plan…….”

উপসংহারে বলতে চাই আমি ছাত্র দলের একজন কর্মি হিসাবে ১৯৮৫ সালে সিলেটের এইডেড হাইস্কুলে অধ্যয়ন কালে যোগ দিয়েছিলাম। জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাধক জনাব, মিছবাউল কাদির ফাহিম আমাকে এম.সি কলেজ শাখার কোষাধক্ষ্য থেকে শুরু করে ২০০০ সাল পর্যন্ত থানা, জেলা কমিটির বিভিন্ন পদে ছিলাম। কিন্তু ২০০৯ সালে জনাব, ইলিয়াছ আলী আমাকে বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সভাপতি পদে আমাকে দেখতে চান মর্মে প্রস্তাব দিলে আমি বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করি। কিন্তু শহীদ জিয়ার হাতে গড়া সংগঠনে ছিলাম, আছি, থাকব। বসন্তের কুকিল হয়ে নহে, কারন আমার বয়স ৫৬ এবং উকালতির বয়স ২৬ বৎসর।
লেখক, সভাপতি-সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বিয়ানীবাজার, সিলেট। মোবাইল নং ০১৮১৯১৭৬২১৭

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 987 বার

শেয়ার করুন