
কোম্পানীগঞ্জ সংবাদদাতা:
কয়েক দশক থেকে প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের অপেক্ষা একটি সেতুর জন্য। যে সেতু সংযুক্ত করবে তাদের উপজেলার প্রধান সড়কের সাথে। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে জীবনযাত্রার মানে। অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের। উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে পুরো একটি অঞ্চল। এমন স্বপ্নের সেতুর অপেক্ষায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ও উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের মানুষের। দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার টুকের বাজার এলাকার ধলাই নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য মিছিল মিটিং আর মানববন্ধন করলেও কোন সুফল আসেনি।
উপজেলার সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম বাজার হচ্ছে টুকের বাজার। এখানে প্রায় পুরো উপজেলার মানুষ আসেন কেনাবেচা করতে। এই বাজার ধলাই নদীর তীরবর্তী হওয়ায় সারা বছর নৌকা কিংবা বাঁশের সেতু দিয়ে পূর্ব পাড়ের মানুষদের পারাপার হতে হয়। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ধলাই নদী পাড় হয়ে টুকের বাজার আসেন। তাছাড়া ধলাই নদীর পূর্ব পাড়ের বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা পণ্য পরিবহনে মারাত্মক হিমশিম খেতে হয়। পরিবহনের সুবিধা না থাকায় সময় মতো উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে না পারায় অনেক সময় কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় ঐ অঞ্চলের মানুষদের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোম্পানীগঞ্জ থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। এর আগে তিনি সিলেট সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিজয়ী হওয়ার পর মন্ত্রী প্রথম দিনের কোম্পানীগঞ্জ সফরে এসে বলেছেন জনগণের চলাফেরার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দিয়ে ব্রিজ কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণ করা হবে। তাছাড়া উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তার কাজের চাহিদা চেয়েছেন তিনি। তার এমন প্রদক্ষেপে আশায় বুকবাঁধছেন ঐ এলাকার প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ।
পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের সচেতন মহলের ব্যনারে গত বছর নদীর তীরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেতু নির্মাণের এই মানববন্ধনে কয়েকশত মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে বক্তারা সেতুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তাছাড়া সরকারের বিভিন্ন দপ্তরেও সেতু নির্মাণের জন্য আবেদন দেওয়া হয়েছে। রাজনগর নতুন বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ধলাই নদীর টুকের বাজার অংশে সেতু না থাকায় ঐ এলাকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাছাড়া সরকারি বেসরকারি চাকুরিজীবীরা প্রায়ই সময় মতো নিজ কর্মস্থে উপস্থিত হতে পারেন না।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, দীর্ঘদিন থেকে আমরা সেতুটি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদনও জানিয়েছি। তাছাড়া এলাকাবাসী সেতু নির্মাণের জন্য মানববন্ধনও করেছে। পূর্ব পাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ধলাই নদীর টুকের বাজার অংশে সেতু নির্মাণ এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ফয়জুর রহমান বলেন, এই আধুনিক যুগে পূর্ব পাড়ের মানুষরা যেন একটি দ্বীপে বসবাস করছেন। এখানে বসবাসরত মানুষেরা অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে পারে না। ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে যেতে পারে না যার জন্য ঐ এলাকার ছাত্রছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা সদরের সাথে সড়ক পথে সংযোগ না থাকায় উন্নয়ন বঞ্চিত হয়ে আছে প্রায় ২০/২৫টি গ্রাম। এই সেতুর জন্য পুরো একটি অঞ্চল অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। দ্রুত ধলাই নদীর টুকের বাজার অংশে সেতু নির্মাণ হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দুঃখকষ্ট লাঘব হবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাব উদ্দিন বলেন মন্ত্রীর প্রোগ্রামে আমি ধলাই নদীর টুকের বাজার অংশে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছি। পূর্ব পাড়ের মানুষের ভোগান্তি রোধে এই সেতু অতি জরুরি।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার