
বিয়ানীবাজার সংবাদদাতা:
২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার থানায় দায়ের হওয়া কোন মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। এই থানায় রুজু হওয়া ৪টি মামলার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন ভূক্তভোগীরা। অভ্যুত্থান পরবর্তী বিয়ানীবাজারে ঢালাও মামলায় শুধু আওয়ামী লীগ নয়, আসামি করা হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকেও।
বিয়ানীবাজার থানায় হামলা পরবর্তী একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৪টি মামলাই রুজু করা হয়। গণহারে হওয়া মামলা নতুন করে যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। এতে বিনা দোষে আসামী হওয়া ব্যক্তিগন কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।
সিপিবি বিয়ানীবাজার শাখার সভাপতি এডভোকেট আবুল কাশেম বলেন, জুলাই হত্যাকান্ডের ঘটনায় যেসব মামলা রেকর্ড হয়েছে, সেগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করার আগে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি যাতে কোনোভাবে বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। মামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। একটি ঘটনায় এত মানুষকে আসামি করার করণে বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
জানা যায়, ঘটনাবহুল ৫ আগস্ট পরবর্তী বিয়ানীবাজার থানায় দায়ের হওয়া ৪টি মামলায় প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়। এখন পর্যন্ত কোন মামলারই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়নি। এসব মামলায় কারাগারে যাওয়া সকল আসামী বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। সর্বশেষ মুক্তি পান মাথিউরা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন। স্থানীয়ভাবে তিনিই সবচেয়ে বেশী মেয়াদে কারবরণ করেছেন। গত রমজানে দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে মুক্তি পান উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য কামরুল ইসলাম।
সূত্রে জানা যায়, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা, সংঘর্ষ, গুলি ও হামলার ঘটনায় ৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ জন মারা যান। এসব ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ, কল রেকর্ড, ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক বলেন, সব দিক বিবেচনা করেই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশমতে পুলিশ কাজ করছে। জুলাই হত্যাকান্ডের মামলা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে এবং রেঞ্জ অফিসে একটি করে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত এসব মামলার অগ্রগতি ও সমস্যা সমাধানে সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকালে বিয়ানীবাজারের ৫ জন নিহত হন। এদের মধ্যে সাংবাদিক আবু তাহের তুরাব হত্যা মামলা আন্তর্জার্তিক ট্রাইব্যুনাল ঢাকায় চলমান। চারখাইয়ের সোহেল আহমদ নারায়নগঞ্জে নিহত হন। অপর নিহত রায়হান আহমদ, তারেক হোসেন ও ময়নুল ইসলাম ৫ আগস্ট বিয়ানীবাজারে নিহত হন। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়ভাবে পৃথক ৩টি এবং দুবাগের তাজিম চৌধুরী আহত হওয়ার ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে থানার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং লুট হওয়া সরকারি সম্পদের একটি তালিকা করে থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয় ।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 989 বার