Daily Jalalabadi

  সিলেট     রবিবার, ২৯শে মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৫ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে ইউরোপ পাঠানোর নামে প্র*তা*র*ণা

admin

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৪৭ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
শ্রীমঙ্গলে ইউরোপ পাঠানোর নামে প্র*তা*র*ণা

স্টাফ রিপোর্টার:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিকুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ইউরোপ পাঠানোর নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, মিথ্যা মামলা ও হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে বিকুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রেস কনফারেন্সে লিখিত বক্তব্য এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ওই ভুক্তভোগী।মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার প্রবাসী শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সুবজবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সুব্রত চক্রবর্তী লিখিত বক্তব্য বলেন, শ্রীমঙ্গল সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা শ্যামলী কাউন্টারের ম্যানেজার ও একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তী ফার্মেসী কর্মচারী আমার ভাই সুকান্ত চক্রবর্তীকে ফ্রান্স পাঠানোর নামে তিন লক্ষ টাকা নেন। এজন্য শিক্ষা ও বিভিন্ন সনদ তৈরি করে দিতে কয়েক দফায় আরো লক্ষাধীক টাকা নেয়। পরে ফ্রান্স দূতাবাস জ্বাল কাগজপত্রের জন্য ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভিসা রিজেক্ট করে দেয়। ভিসা না হওয়ায় শর্ত মতে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন। এ নিয়ে শ্রীমঙ্গলের সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছে বিচার প্রার্থনা করায় আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানী প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে।ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘ ১০-১১ বছর ধরে বিদেশে থাকাকালে বিকুল চক্রবর্তী অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করে। দেশে আসার আগে তার স্ত্রীর জন্য স্বর্নের চেইন, মোবাইল ফোন ও ডিএসএলআর ক্যামেরা নিয়ে আসি। এসব টাকা দেশের আসার সাথে সাথে দিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়নি। এভাবে প্রায় ১৩-১৪ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে বিকুল।তিনি বলেন, বারবার আমার পাওয়া টাকা দেওয়ার জন্য তাগিদ দিলে সে টালবাহানা নানা ইস্যু তৈরি করে। প্রবাসে থাকাবস্থায় বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরি। এতে শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিলেও সেখানে কোনো সুবিচার পাইনি। সর্বশেষ বিকুল চক্রবর্তী একজন সাংবাদিকদের মাধ্যমে টাকা দিবে না, আমি কি করতে পারি তা যেন করিয়ে দেখাই বলে জানায়।

 

প্রবাসী সুব্রত অভিযোগ করেন, গত ৬ মার্চ সবুজবাগ দোল উৎসবে বিকুলকে দেখতে পেয়ে আমার পাওয়া টাকার জন্য তাগাদা দিলে সেখানে সে আমার সাথে উচ্চবাচ্য করে। সেখানে উপস্থিত মরুব্বিগণকে জানিয়ে উৎসবস্থল ত্যাগ করি। ওইদিন বিকাল তিনটার দিকে বিকুলের নির্দেশে তার কাকাত ভাই ৭-৮ তরুণ যুবককে আমার বসতবাড়িতে পাঠিয়ে হামলা চালিয়ে আমাকে দেখে হুমকি দেয়। এই হামলার ছবি সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।  এরপর তিনি পরিকল্পিক ভাবে আমার বিরুদ্ধে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করিয়েছে।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সুব্রত চক্রবর্তী- বিকুল চক্রবর্তীকে একজন ধান্ধাবাজ প্রতারক উল্লেখ করে বলেন, সে আমার অর্থে আমার ভাইকে ভারতের কৈলা শহরে নিয়ে গিয়ে ওইখানের প্রেসক্লাবের মাধ্যমে একটি ক্রেস্ট প্রদান করে। এজন্য আমার ভাইয়ের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেয়।

 

তিনি আরও বলেন, সে গত এক দশকে নানা অনুষ্ঠান, তার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ, সাংবাদিক অঙ্গন ও শ্রীমঙ্গল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের নামে আমার কাছ থেকে বহু টাকা অনুদান হিসেবে নিয়েছেন। প্রতিবার আমি দেশে আসলে তিনি অনুষ্ঠানের নামে আমার কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং আমাকে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে আমাকে ও অন্যান্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করতেন। এছাড়া প্রবাসে থাকাবস্থায় তখন সে শীতবস্ত্র বিতরণ, ইফতার পার্টি, ঈদ পূর্ণমিলনী, বনভোজনসহ নানা কর্মকান্ড দেখিয়ে আমার বৃদ্ধ মা আরতী চক্রবর্তীর কাছ থেকে নানা সময়ে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

সুব্রত তার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,  প্রতারণা ও জালিয়াতির জন্য বিকুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় সুব্রত চক্রবর্তীর মা আরতি চক্রবর্তী  উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে  চাইলে বিকুল চক্রবর্তী তার মুঠো ফোন রিসিভ করে কথা বলেন-নি। পরবর্তিতে আবার কল দিলে তিনি কল কেটে দেন। মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি  কোনো সাড়া দেননি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার

শেয়ার করুন