
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বিলের পাহারাদারকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। কবরস্থানের লিজকৃত জায়গায় জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করে বিলের পাহারাদারকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মঈন মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে আবদুল মুকিত বলেন, কয়েক দিন আগে বৃহত্তর ইলাশপুর কবরস্থানের (ফইদাবি) দুইটি জলডোবা (বিল) কমিটির কাছ থেকে লিজ নেই। লিজ নেওয়ার পর আমি নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছি। একই গ্রামের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মঈন মিয়ার সাথে আমার পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। গত ৯ নভেম্বর মঈন মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আফতার আলী, তোরাব আলী, সাবেক ইউপি সদস্য সাহাদ মিয়াসহ প্রায় ৩০-৪০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমার লিজকৃত জলডোবায় এসে আমার পাহারাদারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেচ মেশিন জোরপূর্বক বন্ধ করে চলে যায়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমরা পাহারাদারের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করি। পরদিন রাতে পাহারাদার জয়নুল মিয়া পাহারা দিয়ে রাত ২টার পরে জলডোবার কাছে নৌকা নোঙর করে ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ আবার মঈন মিয়া তার দলবল নিয়ে এসে আমার পানি সেচের শ্যালোমেশিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমার পাহারাদার জয়নুল মিয়া বাধা দিলে তারা তার ওপর আক্রমণ করে। পাঁচ-ছয়জন লোক তাকে ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে জ্বলন্ত শ্যালোমেশিনের আগুনে চেপে ধরে।
মৃত্যুর হাত থেকে নিজের জীবন বাঁচাতে জয়নুল জোরে চিৎকার করেন। কোনোরকম তাদের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তার মাথার চুলে লাগা আগুন নেভান। এর ভিতরে উল্লেখিত লোকজন আমাদের পাহারাদারের অস্থায়ী ছনের ঘর (উরা) জ্বালিয়ে দেয়। ঘরে থাকা আমাদের জালসহ অন্যান্য জিনিস পুড়ে যায়। পরে জয়নুল মিয়ার চিৎকারে আমরা ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি ও দ্রুত ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় ফোন দেই। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করেন। পরে আহত পাহারাদার জয়নুল মিয়াকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করাই।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার