
স্পোর্টস ডেস্ক:
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে হেক্সা জয়ের মিশনে নামতে প্রস্তুত ব্রাজিল। কাতার বিশ্বকাপে উদীয়মান তারকা হিসেবে দলে থাকলেও এবার সেলেসাওদের মূল ভরসা ও বিশ্বফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে মাঠে নামবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড বিশ্বাস করেন, এবার ব্রাজিলের কাছে এমন একটি শক্তিশালী স্কোয়াড রয়েছে যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।
ফিফার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ভিনিসিয়ুস জানান, ১৯ বছর বয়স থেকে জাতীয় দলে খেললেও এখন তার দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘আগে আমি ছিলাম কেবল একজন বিস্ময় বালক, কিন্তু এখন আমি দলের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছি। ব্রাজিলকে বিশ্বফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন আমার মূল লক্ষ্য। এটি একটি বিশাল দায়িত্ব এবং আমি একে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’
কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। সেই স্মৃতি হাতড়ে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘গত বিশ্বকাপে আমাদের চমৎকার একটি দল ছিল এবং আমরা খুব কম ম্যাচই হেরেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। ফেভারিট কারা সেটা নিয়ে আমি ভাবছি না, কারণ মাঠে আমাদের নিজেদেরই প্রমাণ করতে হবে।’
ব্রাজিল দলের সাম্প্রতিক টালমাটাল অবস্থার পর ২০২৫ সালের মে মাসে কোচের দায়িত্ব নেন কার্লো আনচেলত্তি। ভিনিসিয়ুসের মতে, আনচেলত্তির আগমন দলের জন্য সঠিক সময়ে হয়েছে। ২০২৪ সালের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় হওয়া এই তারকা বলেন, ‘তিনি আমার দেখা সেরা কোচ। ২১ বছর বয়সে যখন তার অধীনে খেলি, তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন। আনচেলত্তি ফুটবলকে খুব সহজ করে তোলেন এবং দলের মধ্যে একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বজায় রাখেন যা আমাদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
দলের কৌশল সম্পর্কে এই তারকা ফরোয়ার্ড জানান, আনচেলত্তি এমন একটি দল গড়ছেন যারা আক্রমণভাগে যেমন শক্তিশালী, রক্ষণেও সমান কার্যকর। ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘তিনি আমাদের পজিশন বদলে খেলার এবং সহজাত শৈল্পিক ফুটবল খেলার স্বাধীনতা দেন। তবে আধুনিক ফুটবলে দলগত শক্তির ওপর জোর দেওয়া সবচেয়ে জরুরি।’
আগামী ১৩ জুন নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ব্রাজিল। ষষ্ঠ শিরোপার অপেক্ষা ঘোচাতে মরিয়া ভিনিসিয়ুস সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘আমাদের স্কোয়াড যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে বিশ্বকাপ একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু কঠিন টুর্নামেন্ট। গত বিশ্বকাপের মতো কেউ ইনজুরিতে পড়লে যেন মানসিকভাবে দল ভেঙে না পড়ে, সেজন্য আমাদের সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা এবার যেকোনো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে ররং।’
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 996 বার