
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সম্পত্তির বিরোধে কুমিল্লায় জসীম উদ্দিনকে হত্যা করে সিলেটে আত্মগোপনে থাকা মামলার প্রধান আসামী নাজমুল ইসলামকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাব। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানাধীন ব্লু বার্ড স্কুলের সামন থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত নাজমুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানাধীন ধানিশ্বর এলাকার আলী আকবরের ছেলে।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে এসব তথ্য জানায় র্যাব।
র্যাব জানায়, নিহত জসীম উদ্দিন গ্রেফতারকৃত নাজমুল ইসলামের সম্পর্কে আত্মীয় হয়। গ্রেফতারকৃত নাজমুল ইসলামের জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল। উক্ত বিষয়ে এলাকায় অনেকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোন মীমাংসা হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ মার্চ নাজমুল ইসলামরা নিহত জসীম উদ্দিনের ভোগ-দখলীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করলে ভিকটিম ও তার স্ত্রী বাধা প্রদান করেন। তখন বিবাদীগণ ভিকটিম ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে মারাত্মক আহত করে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে বাড়িতে ফিরে যান। ঘটনার দিন গত ১৬ মার্চ সন্ধ্যায় ভিকটিমের বাড়িতে ফিরে আসার বিষয়ে সংবাদ পেয়ে অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনসহ পূর্ব-পরিকল্পনা মোতাবেক বেআইনীভাবে হাতে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভিকটিমের বসত বাড়িতে প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে হামলা করে তাদের বসত ঘরসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর করে ক্ষয়-ক্ষতি সাধন করে।
র্যাব আরও জানায়, ভিকটিম ঘর থেকে বের হয়ে বিবাদীগণকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করার সময় বিবাদীগণ ভিকটিমকে ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। সেই সাথে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে বিবাদীগণ ভিকটিমকে হাত-পা বেঁধে পুকুরে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ভিকটিমকে মৃত ঘোষনা করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার