নিউজ ডেস্ক:
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন নুসরাত জাহান (২২)। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় নুসরাত ওই প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছে।
অনশনরত নুসরাত জাহানের দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার শিদলাই ইউনিয়নের মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাঈদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে রাজধানী ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
নুসরাত জাহান জানায়, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবু সাঈদ তাকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চড়বাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুদিন থাকার পর তিনি বিয়ের বিষয়টি সামনে আনলে আবু সাঈদ কাউকে কিছু না জানিয়ে তাকে রেখে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
পরে বিভিন্নভাবে আবু সাঈদের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে উপজেলার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে পৌঁছান নুসরাত। সেখানে গিয়ে বিয়ের কথা বললে আবু সাঈদ তা অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ তার। শুধু তাই নয়, তাকে টানাহেঁচড়া করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বিষয়টি শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানান। চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন।
তবে নুসরাতের অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন সময়ে আবু সাঈদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই তিনি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
নুসরাত জাহান বলেন, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক। সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে ফিরব না। হয় সে আমাকে বিয়ে করবে, না-হয় এই বাড়িতেই আমার মৃত্যু হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণী ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে না দেখে অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে গেছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও যুবকের পরিবার কোনো সহযোগিতা করেননি বলে তাদের অভিযোগ। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আলাউল আকবর বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর উভয়পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ছেলেটি বৈঠক ছেড়ে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নুসরাত জাহানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তরুণী তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাটি প্রেমসংক্রান্ত। ঘটনাস্থল কাফরুল থানায় হওয়ায় এ বিষয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না। আর তাছাড়া এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের অবগত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নুসরাত জাহান ও আবু সাঈদ ওরফে সাইফুল ইসলামের মধ্যে বিয়ে বা আপোশ-মীমাংসার কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাঈদ ও তার পরিবারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার মেইন রোড বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: dailyjalalabadi@gmail.com
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।