নিজস্ব প্রতিবেদক :
আজ ১২ রবিউল আউয়াল। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। এ দিন আল্লাহর প্রিয় হাবিব ও শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। একই দিনে ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। বিশ্বের মুসলমানরা দিনটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করেন।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আখেরি নবী। তিনি আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দিয়ে বিশ্বে সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবতার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন। মহান আল্লাহ তার ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল করেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দান-খয়রাত, নফল নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। অনেকে নফল রোজাও রাখেন।
ইতিহাস অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে মক্কার কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের আগেই বাবা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। ছয় বছর বয়সে তিনি মাতৃহারা হন। পরে দাদা আবদুল মুত্তালিব ও চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে তিনি বেড়ে ওঠেন।
বাল্যকাল থেকেই বিশ্বস্ততা ও আমানতদারির জন্য মক্কার মানুষের কাছে তিনি আল-আমিন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২৫ বছর বয়সে হজরত খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে তার বিবাহ হয়। ৪০ বছর বয়সে তিনি ওহি লাভের মাধ্যমে নবুয়তপ্রাপ্ত হন।
মক্কায় প্রায় ১৩ বছর ইসলাম প্রচারের পর ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ১০ হাজার সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে মক্কা বিজয় করেন। এরপর ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে রবিউল আউয়ালের একই দিনে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
দিনটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জশনে জুলুস, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এসব কর্মসূচি নিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশবাসী ও বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহারের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, মহানবী (সা.) তার জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমান যুদ্ধ, সংঘাত, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতায় বিপর্যস্ত বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তিনি শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। মহানবী (সা.) সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তার জীবন ছিল পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা ও দয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও নৈতিক অবক্ষয়ের সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এসব মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার মেইন রোড বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: dailyjalalabadi@gmail.com
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।