
স্টাফ রিপোর্টার:
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের সময় বিয়ানীবাজারে উন্নয়নের অনেক কাজই বেড়াজালে আটকা পড়েছিল। তখনকার সরকারের মন্ত্রী-এমপি-জনপ্রতিনিধিরা বিয়ানীবাজারের উন্নয়নের চাকা ঘুরাতে গিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছেন। নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও এসব আলোর মুখ দেখতে পারেনি।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে। সিলেট-৬ আসনের অর্ন্তর্গত বিয়ানীবাজার উপজেলাকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছেন এই আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তাঁর মাধ্যমে বাতিল হয়ে যাওয়া সিলেটের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প সিলেট-শেওলা স্থলবন্দরের ফোরলেনের কাজ ফের শুরু হয়েছে। প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সারপার-সিলেটিপাড়া-গজুকাটা (এবং সারোপার-গজুকাটা) রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বহুল প্রত্যাশিত কুশিয়ারা নদীর বহরগ্রাম-শিকপুর সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়া ফের শুরু হয়েছে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হবে ২৫০ কোটি টাকা। মাথিউরায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে (দাসউরা বাজার সংলগ্ন) আড়াই কিলোমিটার রাস্তার পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। আমুড়া – মাথিউরা – বিয়ানীবাজার’ সড়কের গোলাপগঞ্জ অংশের ৯.৭২ কিলোমিটার (৯,৭২০ মিটার) রাস্তা প্রশস্ত ও শক্তিশালী করা হবে। বিয়ানীবাজার পৌরসভার জন্য ১শত কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্ধ পাওয়ার বিষয়টি অবহিত করেন সাংসদ এমরান চৌধুরী নিজে।
উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা বলেন, নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের দু:খ-দূর্দশার অবসান ঘটাতে নিরলস কাজ করছেন এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি। বিএনপি নেতাকর্মীরা তাঁর পাশে থেকে সহায়তা করছেন। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক দৌলা হোসেন সুভাষ জানান, মাত্র কয়েকমাস পরই উন্নয়নের চিত্র ফুটে উঠবে। পুরো জনপদে ঠেকসই উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়াও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১শ’ শয্যায় উন্নীতকরনের কাজ অচিরেই শুরু হবে। বিয়ানীবাজারের উন্নয়নে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। সুরমা-কুশিয়ারা নদীর দু’তীর সংরক্ষণে নেয়া হবে বৃহৎ প্রকল্প। লোলা নদীসহ গুরুত্বপূর্ণ একাকিক খাল খননের কাজ যাচাই-বাছাই চলছে। বিয়ানীবাজার থানায় প্রবাসী ডেস্ক চালু হবে খুব দ্রুত। দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে কাজ শুরু করতে না পারা মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে তৃণমূল মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সেতু ও স্কুল ভবনের উন্নয়ন কাজও শুরু করা হবে।
বিয়ানীবাজার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন জানান, নিজ নির্বাচনী এলাকার সকল অলিগলিতে এমপি এমরান চৌধুরীর বিচরণ। উন্নয়নের জন্য কাউকে বলতে হয়না। সরাসরি এমপিকে অবগত করা হলে দ্রুত তিনি তা সমাধানে উদ্যোগী হন। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে এমপি সাহেব বেশী আগ্রহী।
বিয়ানীবাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, বিগত দিনে আওয়ামী লীগ শুধু লুটপাটেই ব্যস্ত ছিলো। জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিলো না। যার কারণে তারা কোনো উন্নয়ন করেনি। কিন্তু এবার মানুষ আস্থা রেখেছে ধানের শীষে। ইনশাআল্লাহ অবহেলিত এই জনপদকে উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মডেল আসন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। তিনি জানান, স্থানীয় বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংয়োগের জন্য আমি সংসদে একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েছি। আশাকরি এ সমস্যা দূর করবে সরকার।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার