Daily Jalalabadi

  সিলেট     শনিবার, ২রা মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৯শে বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে ভাঙছে বাঁধ ডুবছে ফসল কাঁদছে কৃষক

admin

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ | ০২:২৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০২ মে ২০২৬ | ০২:২৫ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সুনামগঞ্জে ভাঙছে বাঁধ ডুবছে ফসল কাঁদছে কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার:
শুক্রবার ভোররাত থেকে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কাইল্যানীতে বাঁধের ওপর দিয়ে পানি উপচে পড়া শুরু হয়েছে। এর ফলে শালদিঘা হাওরের হাজারো কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাইল্যানী উপ-প্রকল্পের ২০ নম্বর পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাতে পানি উপচে পড়ার পর পানির প্রবল চাপে ধীরে ধীরে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে যেতে শুরু করে, যার ফলে হাওরে পানি প্রবেশ করছে।

উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কৃষকরা বিকাল পর্যন্ত (বিকাল ৪টা) বাঁধটি রক্ষায় কাজ করছিলেন।

শালদিঘা হাওরের কৃষক নিরঞ্জন সরকার বলেন, “হাওরের অর্ধেকের বেশি জমির ধান এখনো কাটা হয়নি। যদি বাঁধটি আটকানো না যায়, তাহলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।”

একই এলাকার কৃষক রনি তালুকদার বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছি না, কাটলেও শুকাতে পারছি না। এর মধ্যে আবার বাঁধ রক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। আমরা এখন চরম বিপদে আছি।”

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পাউবোর এসও ও পিআইসি সভাপতির যোগসাজশে বাঁধে দুর্নীতি হয়েছে। বাঁধের উচ্চতা কম হয়েছে, স্লোপ কম ছিল। এ কারণে হাওরের সর্বনাশ ঘটেছে।

তিনি বলেন, এই বাঁধের অন্য অংশের চেয়ে এই অংশ নিচু হয়েছে। এ কারণে সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তেই এদিক দিয়ে পানি উপচে গেছে। একপর্যায়ে বাঁধটি ভেঙে গেছে।

মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার বলেন, সকালে বাঁধের ভাঙনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ৩০-৩৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগিয়েছি। স্থানীয় কৃষকরাও চেষ্টা করছেন। পিআইসির সভাপতি লাল মিয়াকে কমপক্ষে ১০০টি ফোন দেওয়ার পরে রিসিভ করে বললেন, সাড়ে নয়টায় আসবেন। কিন্তু বিকাল ৪টা পর্যন্ত তার খোঁজ নেই।

পিআইসির সভাপতি মো. লাল মিয়া চামরদানি ইউনিয়ন বিএনপির চার নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি। সাংবাদিকদের তিনি জানান, টানা বৃষ্টির কারণে মাটি ক্ষয় হয়ে বাঁধটি নিচু হয়ে যায়। বাঁধ রক্ষার জন্য সারারাত ঘটনাস্থলে ছিলাম। সকাল থেকে অন্য পাশে কাজ করতে হচ্ছে। এজন্য সেখানে যেতে পারিনি। সংবাদপডকাস্ট

উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, শালদিঘা হাওরে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমি পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ১৬০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যাই। বাঁধ রক্ষায় ভোর থেকেই কাজ করছি। আশা করছি, বাঁধটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।”

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার

শেয়ার করুন