Daily Jalalabadi

  সিলেট     শনিবার, ২৯শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৪ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড়লেখায় গৃহবধূকে নি*র্যা*ত*ন করে হ ত্যা র অভিযোগ

admin

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৬:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৬:০৪ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
বড়লেখায় গৃহবধূকে নি*র্যা*ত*ন করে হ ত্যা র অভিযোগ

নিউজ ডেক্স:
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নিকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে বলে অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতনের পর মুন্নির মরদেহ বাথরুমের কাঠের বীমের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। একই সঙ্গে একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মুন্নির পরিবার।

এসময় তার বাবা হাজী মকবুল আলী ও মা রেনু বেগম উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুন্নির খালাতো ভাই মাছুম আহমদ। লিখিত বক্তব্যে মুন্নির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৩ সালে বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মামুনুর রশিদ লাভলুর সঙ্গে পারিবারিকভাবে মুন্নির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে গালিগালাজসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। বিষয়গুলো মুন্নি নিয়মিত তার বাবা-মা ও স্বজনদের জানাতেন। তাদের এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি নির্যাতন সহ্য করেই সংসার করছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠকও হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি মুন্নির ননদ, ভাসুর, জা ও শাশুড়ি বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। স্বামীর জন্য সৌদি আরবে গাড়ি কেনার কথা বলে ওই টাকা চাওয়া হয়। পরে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হলেও চাপ ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। বরং ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য আরও টাকা এনে দিতে তাকে চাপ দেওয়া হতো।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে মুন্নি তার বাবা-মাকে জানান, ননদ, ভাসুর, জা ও শাশুড়ি তাকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারেন। গত ২১ আগস্ট তাঁদের সঙ্গে মুন্নির বিরোধের একপর্যায়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তাঁর বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। পরে এক মুরব্বি ফোন করে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানান।

এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরিচয়ে একজন ফোন করে মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের বীমের সঙ্গে মুন্নির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বাথরুমের দরজাও খোলা ছিল। উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে জানান, মুন্নি আত্মহত্যা করেছেন।

তবে পরিবারের দাবি, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও মুন্নি নির্যাতনের কথা বাবা-মাকে জানিয়েছিলেন। তাই হঠাৎ তার আত্মহত্যার বিষয়টি তাদের কাছে সন্দেহজনক। মরদেহ নামানোর পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলেও দাবি করেন তারা। এসব আঘাতের ছবি ও ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুন্নির মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার হয়নি। ওই ফোনে নির্যাতনের ভিডিও, খুদে বার্তা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। ফোনটি উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সহায়তা করবে বলে তাঁরা মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মুন্নির মরদেহ থানায় নেওয়ার পর কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ময়নাতদন্ত না করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তবে পরিবারের দাবির পর শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যাতে কোনো ধরনের প্রভাবের কারণে প্রভাবিত না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

একই সঙ্গে সুরতহাল প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও, মুন্নির মোবাইল ফোন, ভিডিও, খুদে বার্তা ও কলের তথ্যসহ সব আলামত সংরক্ষণ এবং সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়।

মুন্নির বাবা-মা জানান, ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ন্যায়বিচারের আশায় তারা বিভিন্নজনের কাছে যাচ্ছেন। মুন্নির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এবিষয়ে বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, লাশ উদ্ধারের পর একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। গৃহবধূর মৃত্যুর লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছি। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার

শেয়ার করুন