Daily Jalalabadi

  সিলেট     শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সহকারী শিক্ষক: চূড়ান্ত সুপারিশের পরও মেলেনি নিয়োগপত্র, অনিশ্চয়তায় বানিয়াচংয়ের ৯ প্রার্থী

admin

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৩৫ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সহকারী শিক্ষক: চূড়ান্ত সুপারিশের পরও মেলেনি নিয়োগপত্র, অনিশ্চয়তায় বানিয়াচংয়ের ৯ প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বানিয়াচংয়ের ৯ জন প্রার্থী।

গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন জেলায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হলেও বানিয়াচংয়ের এসব প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।

প্রার্থীদের দাবি, চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দেওয়ার পরও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা জানতে পারেননি।

প্রার্থীদের কয়েকজন জানান, তাদের নিয়োগপত্র না পাওয়ার পেছনে এনএসআই ও ডিএসবি যাচাইয়ের প্রতিবেদনে ‘নেতিবাচক’ তথ্য থাকার কথা তারা জানতে পেরেছেন। তবে ওই প্রতিবেদনে কী ধরনের তথ্য রয়েছে বা কেন তাদের বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

বানিয়াচং উপজেলা থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে ১৬ জন নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ১১ জনের নিয়োগপত্র আটকে রয়েছে বলে প্রার্থীরা জানিয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দেননি। তবে মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দেওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়া ৯ জন হলেন—সাজনিন আক্তার, আবু বকর মিয়া, জাকিরুল ইসলাম, হামিদুর রহমান, সাজিদুল হাসান, রাহুল দাশ, বিকাশ দাশ, মহিবুর রহমান ও ধীমান দাশ।

নিয়োগপত্র না পাওয়া সাজনিন আক্তার সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। আবু বকর মিয়া ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জাকিরুল ইসলাম হিসাববিজ্ঞান, হামিদুর রহমান ও সাজিদুল হাসান গণিত বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। রাহুল দাশ বাংলা বিষয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি থেকে এবং বিকাশ দাশ, মহিবুর রহমান ও ধীমান দাশ ইংরেজি বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন।

প্রার্থীদের বক্তব্য, দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ফলাফলে নাম আসার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তারা মানসিকভাবে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তারা বলেন, “আমরা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল ফিটনেস জমা দেওয়ার পরও কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না, তা আমাদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। যদি ভেরিফিকেশনে কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে সেটি আমাদের জানানো হোক। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি জানাচ্ছি।”

আরেক প্রার্থী বলেন, “চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নাম দেখে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। এখন অন্যরা নিয়োগপত্র পেলেও আমরা না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হোক এবং যাচাই-বাছাই স্বচ্ছভাবে করা হোক।”

প্রার্থীরা দ্রুত তাদের নিয়োগপত্র প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়োগপত্র আটকে থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার

শেয়ার করুন