Daily Jalalabadi

  সিলেট     শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৪ঠা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামীর কাছ থেকে গৃহবধূকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ, যেন মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রতিচ্ছবি

admin

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৫০ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
স্বামীর কাছ থেকে গৃহবধূকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ, যেন মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রতিচ্ছবি

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার হোমনায় স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গৃহবধূকে (১৮) ধর্ষণকাণ্ডে তোলপাড় চলছে। এ ঘটনাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছে সচেতন মহল। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে জোরালো দাবি উঠেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কামাল হোসেন (২২) শরীফুল ইসলাম (২৩) সিয়াম (২০)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিকটিম নারী ও তার স্বামীর সঙ্গে হোমনা সদরের ভাড়া বাসায় থাকেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা একটি অটোরিকশা নিয়ে তিতাস উপজেলায় বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে কৃষি কলেজ এলাকা পার হওয়ার পর ওপারচর গ্রামের কিশোর গ্যাং লিডার আশিকুর রহমান (২৪) ও তার ছয়-সাতজন সহযোগী দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে ওই দম্পতির পথ রোধ করেন।

অভিযুক্ত যুবকেরা দম্পতিসহ অটোরিকশাটিকে জোরপূর্বক একটি নির্জন ইটের রাস্তায় নিয়ে যান। সেখানে আশিকুর রহমান ও তার দুই সহযোগী ওই নারীকে স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। অন্যরা তার স্বামী ও অটোরিকশার চালককে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। এ সময় আশিকুর রহমান ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় হোমনা উপজেলাসহ গোটা জেলায় তোলপাড় চলছে। সচেতন মহল এ ঘটনাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা হিসেবে উল্লেখ করছেন। ঘটনাটি টক অব দ্যা ডিস্ট্রিক্টে পরিণত হয়েছে।

নারী নেত্রী আলেয়া বেগম বলেন, এটি একটি মধ্যযুগীয় বর্বরতা। সভ্য যোগে এটা অবাস্তব। এমন ঘটনা আগে রূপকথার গল্প হিসেবে আমরা শুনতাম। কিন্তু হোমনায় স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনাটি রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। এখন দেখি পুলিশ এ ঘটনায় কি পদক্ষেপ নেয়।

কুমিল্লা এইড এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, অত্যন্ত জঘন্যতম একটি ঘটনা ঘটেছে। এটা কল্পনার বাইরে। এ ঘটনায় সচেতন মহলকে বাকরুদ্ধ করেছে। ঘটনায় জড়িতদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হোমনা থানার এসআই আনিস উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের জবানবন্দি নিতে পারে। আমরা জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া বলেন, মূলত বখাটে আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ ধর্ষণকাণ্ড ঘটেছে। এ সময় তার ৬-৭ জন সহযোগী ছিলেন। আমরা তদন্ত করে এবং ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারাও বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দিলে রিমান্ড চাইব না। অন্যথায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। মূল ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার

শেয়ার করুন