
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে গভীর রাতে ১৪ বছর বয়সী নাতনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার সময় বাঁধা দেওয়ায় দাদিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মা-মেয়েসহ আরও ২জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে গোয়াইনঘাট থানাপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত ওই বৃদ্ধা দিলারা বেগম (৫৪)। তিনি উপজেলার বীরমঙ্গল হাওর গ্রামের মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহতের নাতিন হাবিবা আক্তার (১৪) তার মা সাজনা বেগম আহত হয়েছেন। তারা দুজনেই গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং হাবিবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা হাবিবা আক্তারকে মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। হাবিবার চিৎকার শুনে তার মা সাজনা বেগম এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। মা-মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে তার দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে আসেন। তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশী আলকাছ মিয়া জানান, একটি টিনের ঘরে দিলারা বেগম তার প্রতিবন্ধী মেয়ে, নাতনি হাবিবা, এক প্রতিবন্ধী নাতি এবং ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের দুই ছেলে কয়েক মাস আগে ঋণ করে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কান্নাকাটির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দিলারা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। অন্য আরেকটি স্থানে জখমি অবস্থায় পড়ে ছিলেন হাবিবা ও তার মা।
আহত সাজনা বেগম জানান, রাতের বেলা হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দরজা খোলা দেখতে পান। বজ্রপাতের আলোয় দেখতে পান, এক ব্যক্তি তার মেয়ের ওপর চড়াও হয়েছে। বাধা দিলে ওই ব্যক্তি হাবিবাকে মুখ চেপে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির সময় তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার অভিযান চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দূর্বৃত্তরা মধ্যেরাতে ঘরে প্রবেশ করে এবং কিশোরীকে অপহরণ বা ধর্ষণের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালাতে পারে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 991 বার