Daily Jalalabadi

  সিলেট     বুধবার, ১০ই জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“তথাকথিত শিক্ষিতদের অপমৃত্যু হয়ে গেল”

admin

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০২:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ | ০২:৪২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
“তথাকথিত শিক্ষিতদের অপমৃত্যু হয়ে গেল”

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
২৭ মন দুধের হিসাব চাই। ১০ মাস ১০ দিন গর্ভ ধারীনি মাতা শিশু সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর শরিয়তের বিধান মোতাবেক ২টি বৎসর তাহাকে দুগ্ধ পান করিয়ে থাকেন। গবেষনায় দেখা গেছে এই সময়কালে মা ২৭ মন দুধ পান করিয়ে থাকেন ঐ শিশুটিকে। মিরপুরের নুর জাহান বেগম সহ অগনিত “মা” বৃদ্ধ বয়সে ছেলে-মেয়েদের কাছে অবহেলিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, দুঃখে দুঃখে মৃত্যুবরণ বা বৃদ্ধাশ্রম-ই শেষ ঠিকানা। নুর জাহান বেগম রত্নগর্ভা হিসাবে সমাজ মূল্যায়ন করিলে ও সন্তানরা কিন্তু মানুষ হননি। নুর জাহান বেগমের ছেলে-মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত। তাহার ছেলে ড. এ.কে.এম আনিসুর রহমান, যুগ্ম সচিব, ড. এ.কে.এম আশিকুর রহমান, বুয়েটের অধ্যাপক, অন্য ছেলে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য কানাডায় অধ্যয়নরত, মেয়ে সুলতানা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা এবং জামাতা প্রফেসর। তাহাঁরা সকলেই একডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত। কিন্তু মানবিক শিক্ষায় বিবর্জিত। মানবিক শিক্ষা অনুপস্থিতির কারনে তাহাদের মত অসংখ্য শিক্ষিত প্রজাতি বা পশুর অপমৃত্যু হয়ে গেল। ঐ সব শিক্ষিত পশুদের ভবিষ্যৎ বা বর্তমান বলতে কিছু নেই। তাহাঁরা মনে করেছিল স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকা-ই ভবিষ্যৎ। এসব শিক্ষিত প্রজাতিরা গর্বকরে বলে থাকেন, wife is my life.

মানবতার মৃত্যু নাই। সমাজ সদা জাগ্রত। জনতার প্রতিবাদের ভাষা থেকে সরকার এগিয়ে আসিলে শতভাগ সরকারের জনসমর্থন বৃদ্ধি পাবে সাধারন জনগনের নিকট। নুরজাহান বেগমের কথিত ছেলে মেয়েদের দিয়ে উদাহরন হিসাবে মানবতার বিচার শুরু করা উচিত। মানবতার নির্দিষ্ট ধারা বা বিধি দিয়ে বিচার করিলে মানবতাকে ছোট করে দেখা হবে। যদি ও সরকার ২০১৩ সালে বৃদ্ধ পিতা-মাতার সুরক্ষা আইন হয়েছে। এ ধারা দিয়ে বিচার করলে মানবতা পরাজিত হবে। সর্বোপরি নূরজাহান বেগমের ছেলে-মেয়ে ও তাহার নাতি পত্নিদের এমনকি স্ত্রীদেরকে সকল প্রতিষ্টান থেকে দায়মুক্তি দিয়ে capital punishment. বা মৃত্যু দন্ড নিশ্চিত করে সরাসরি প্রচার মাধ্যমে প্রকাশ করুন। সরকার সকল বৃদ্ধাশ্রম থেকে সহজে তাহাদের তথাকথিত উত্তারাধীকারীদের তথ্য উপাথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রাচার মাধ্যমে প্রকাশ করুন এবং শাস্তি নিশ্চিত করুন।

নূরজাহান বেগমের মত অগনিত “মা” জাতিকে শ্রদ্ধা সম্মান রেখে বলিতে চাই, প্রত্যেকেই আত্মসমালোচনা করুন এবং দেখুন স্বামীর ঘরে আসার পর স্বামীর পিতা, মাতা, ভাই, বোন, আত্মীয়স্বজনের নিকট ভয়ংকর অত্যচারী কাল নাগিনি হিসাবে আবির্ভুত হয়েছিলেন কি না? যেহেতু কর্মের ফল নিজেই ভোগ করিতে হয়, সেহেতু স্বামীর মাতা-পিতা নিকট থেকে স্বামীকে দূরে সরিয়ে নিয়ে ছিলেন কি না? অথবা জীবদ্দশায় নিকটাত্মীদের কষ্ট দিয়েছিলেন কি না? যদিও নুর জাহান বেগমের মত এ কঠিন মৃত্যু কাহাঁর ও কাম্য নহে।

বিবাহিত জীবনে প্রত্যেক মেয়ে স্বামীর ঘরেই আসতে-ই হয়। মাস দিন যেতে না যেতে শুরু করলেন স্বামীর পরিবারের সাথে মানষিক যন্ত্রনা যা ধীরে ধীরে স্বামীর পরিবার থেকে বিচিহ্ন হয়ে গেলেন। এক পর্যায়ে স্ত্রী স্বামীকে আল্টিমেটাম দিলেন, যদি আমাকে চাও, তাহলে তোমার পরিবার ত্যাগ করতে হবে। শুরু হল স্বামীর মানষিক যন্ত্রনা। প্রায় স্ত্রী-ই বলে থাকেন, আমি গতিকে তোমার সংসার করিতেছি যাহা ইসলাম সমর্থন করে নাই। এক দিকে পরিবার অন্য দিকে স্ত্রী। স্বামী বেচারা উভয় সংকটে। তখন বাধ্য হয়ে অনেক স্বামী-স্ত্রীর কথা রাখে। অনেকে আবার উভয় কুল রক্ষা করতে গিয়ে চিরতরে পরপারে চলে যান। স্ত্রী নির্যাতনের কঠিন আইন আছে কিন্তু পুরুষ নির্যাতনের কোন আইন নেই।

প্রায় স্ত্রীদেরকে-ই বলতে শুনা যায় আমি সংসারে আসার পর তুমি মানুষ হয়েছ। তাহলে ২১ বৎসর পূর্বে স্বামী এবং স্বামীর পরিবার কি অমানুষ ছিলেন? প্রতিটি নারী এসব ইসলাম ধর্ম বিরোধী কথা বার্তা বলে থাকেন। স্বামী নিরবে সামাজিক মর্যাদা ও তাহার পরিবারের ঐতিহ্যের কথা বিবেচনা করে স্ত্রীর কথায় কোন প্রতিবাদ করেন না। যাহারা প্রতিবাদ করে থাকেন তাহাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হতে বাধ্য।

স্ত্রী বা “মা” জাতিকে শ্রদ্ধা সম্মান করে বলতে চাই, আপনাদের যৌবন কাল মাত্র ৪০/৪৫ বৎসর কিন্তু স্বামীর যৌবন কাল মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত। স্বামী একা বসবাস করিলে কেহ খারাপ কিছু শুনতে হয় না কিন্তু স্ত্রী একা বসবাস, এবং স্ত্রীর বাসায় পরপুরুষ আনাগোনা থাকিলে তাহাকে নানা কথা শুনতে হয়। এমকি সমাজচ্যুত হতে হয়। একজন পাগল স্বামী যদি ঘরে থাকে এবং অন্য যে কোন পরপুরুষ আসুক না কেন স্ত্রীদেরকে কেহ চরিত্রহীন বলার সাহাস করে না। স্ত্রী তালাক প্রাপ্ত হলে পিতা, মাতা, ভাই, ভাবী তাহাদের নিকট থেকে উপহার হিসাবে “অপয়া” শব্দটির সাথে পরিচিত হতে হয়। সময় থাকতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই ইসলামী বই পড়ুন এবং ইসলাম কতটুকু কাহাকে কি পরিমান সম্মান দিয়েছে তাহাঁ জানুন এবং আমল করুন। তখন-ই নূরজাহান বেগমের মত পরিনতি না হওয়ার সম্ভাবন-ই বেশী। তখন সংসার জীবন শান্তিতে ভরপুর হবে। স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে যদি …..। ইসলাম ধর্ম হচ্ছে পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। সুতরাং প্রত্যক পিতা-মাতাকে বলব, ছেলে-মেয়েদেরকে সর্বাগ্রে ইসলাম শিক্ষায় শিক্ষিত করুন।

স্ত্রী বা “মা” জাতীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ছেলে ডি.সি, এস.পি, এম.পি, মন্ত্রী অর্থাৎ যে কোন পরিবারে মেয়ে থাকলে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারে কিন্তু স্ত্রী হওয়ার জন্য কোন মেয়ে তাহাদের ছেলেদের সাথে বিয়ের প্রস্তাব পাটাতে পারে না। স্ত্রীকে মেনে নিতেই হবে, আপনার অভিভাবক যেখানে বিয়ে ঠিক করিবে সেখানে-ই স্বামীকে গ্রহন করে দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যেতেই হবে। যদিও অনেক অভিবাবক মেয়ের মতামত নিয়ে থাকেন। কোন মেয়ে-ছেলেকে পছন্দের জন্য ছেলের পিত্রালয়ে গিয়েছেন তা কিন্তু আমার যানা নেই। কারণ অভিভাবকরাই আপনার জীবন জীবিকার চালিকা শক্তি।

সুতরাং সময় থাকতে স্বামী এবং স্ত্রীকে বলতে চাই, উভয় পরিবারের আত্মীয়স্বজনকে সম্মান করতে শিখুন। ইসলামী বিধি বিধান মেনে চলুন এবং আগত সন্তানদেরকে ইসলামী মূল্যবোধে গড়ে তুলুন। তখনই পরিবারে সুখ শান্তিতে ভরপুর হতে বাধ্য। বর্তমান সময়ে অতি আধুনিকতার কারনে জাহান্নামের ঠিকাদারী গ্রহন করেছেন।সর্ব শেষ তথাকথিত শিক্ষিতদের বলতে চাই মানুষ হউন, নিজে এবং আপনার ছেলে মেয়েদেরকে সাধারন জনগনের নিকট ভবিষ্যতে এই অপমৃত্যুর হাত থেকে বাঁচান।

লেখক, সভাপতি-সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বিয়ানীবাজার, সিলেট।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার

শেয়ার করুন