Daily Jalalabadi

  সিলেট     সোমবার, ২২শে জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৮ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম কথিত খাদিম বা ভিক্ষুক নামধারীদের নিকট কি পরাজিত?

admin

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ | ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম কথিত খাদিম বা ভিক্ষুক নামধারীদের নিকট কি পরাজিত?

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব ছিলেন নবাব সিরাজ উদ্দৌলা। কিন্তু তাহার বিশস্ত অনুচর মীরজাফরদের ষড়যন্ত্রে পরিজিত হলেও ইতিহাসে তাহার নাম স্বর্নাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে মহানায়ক হিসাবে। জনাব সরওয়ার আলম বঞ্চিত, শোষিত, নির্যাতিত, মানুষের মুখপাত্র ছিলেন। অবৈধ দখলদার ভদ্র, প্রতারক, সাধু, সন্যসী মানুষরুপি হায়েনাদের নিকট ছিলেন আতংকের মুর্তপ্রতীক। তাহাদের চরিত্র উদগাঠনে যখন নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, হঠাৎ তাহাকে রাষ্ট্রের অদৃশ্য প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে মাত্র ৮ মাস অবস্থানকালীন সময়ে সিলেটবাসীর যে আস্থা ও ভালবাসা অর্জন করিয়াছিলেন, সেই ভালবাসার মানুষটিকে কথিত প্রভাবশালী প্রভাব খাটিয়ে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করিয়েছেন। সে জন্য ঐ ব্যক্তির উপর মীরজাপর বা দেশ দ্রোহী বা আল্লাহর নিকট দাবী সর্বোচ্ছ সিলেট বাসীর পক্ষ থেকে অভিশাপ বর্ষিত হউক। যিনি জনাব সরওয়ার আলমকে প্রত্যাহারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করিয়াছেন এবং যদি তিনি মুসলমান হন তাহার স্বাক্ষী ডান এবং বাম কাদে ২জন ফেরেশতা তাহার নিন্দা কাজের জন্য অপকর্মগুলো লিপিবদ্ধ করিতেছেন বাম কাদের ফেরেশতা। এই অপকর্ম নিশ্চয়ই তাহার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপভোগ করিবে। যেমনটি মীরজাফর গংদের পরিবার ভোগ করিতেছেন। পুলিশের আইজিপি বেনজির মনে করেছিল আইনের উর্দ্ধে, তাহার অবস্থান। আজ সে বা তাহার পরিবার পরিজন কোথায় ? কেউ কি খবর রাখিতেছেন ? নিশ্চয়ই রাখিতেছেন। ইতিহাসের ঘৃণিত নিন্দিত পরিবার হিসাবে লিপিবদ্ধ। কথিত খাদিম নামধারী পরিবারের উক্তরাধীকারীদের বলব, যেহেতু দান খয়রাত ইত্যাদি আল্লাহর ওয়াস্তে সাধারন জনগণ আখেরাতে উদ্দেশ্য করে থাকেন সেহেতু আপনারা যদি এসব খাওয়ার উপযুক্ত হন, তাহলে খাবেন। প্রয়োজনে সিলেটবাসীকে বলব যাকাত ফান্ডসহ অন্যান্য খাতের টাকা বা যে কোন বস্তু কথিত খাদিম পরিবার কে দিতে পারেন। তবে খাদিম পরিবারকে প্রচার মাধ্যমে দান খয়রাত গ্রহনের জন্য ঘোষনা দিয়ে নিতে পারবেন।

মানুষ বাচেঁ কর্মের মধ্যে, কোন অন্যায়ের সাথে মাতা নত করে নহে। যেমন: জনাব সরওয়ার আলম মাত্র ৮ মাস দায়িত্ব পালনকালে সিলেটবাসীর আস্তা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। সিলেটবাসীকে সজাগ করতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন, পরাজিত অপশক্তি ও দুর্নিতীবাজদের নিকট। ইতিমধ্যে দুর্নিতীমুক্ত আধ্যাত্মিক নগরী গঠনের মহাপরিকল্পনা হিসাবে যে সব অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহন করেছিলেন, তাহার তালিকা নি¤œরূপ:

 সিলেট কালেকটরেট মসজিদ সংলগ্ন মার্কেটের লীজ গ্রহীতাগণ সরকারকে প্রতি মাসে দোকানের ভাড়া বাবৎ ২ দুইশত টাকা দিয়ে থাকেন। অথচ লীজ গ্রহীতারা ভাড়া গ্রহীতার নিকট থেকে প্রত্যক্ষ, বা পরোক্ষ ভাবে ৭০/৮০ হাজার টাকা আদায় করে থাকেন। বাস্তবে এসব টাকা আদায় করে জনগনের হিসাব নং বা রাজস্ব খাতে জমা করে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো উচিত। লীজ গ্রহীতাদের নাম পিতার নাম সহ ঠিকানা প্রকাশ করুন এবং অভিলম্বে লিজ বাতিল করুন।

 সিলেট স্টেডিয়াম মার্কেটের প্রতি দোকানের মাসিক ভাড়া বা লীজমানি হিসাবে মাত্র বারশত টাকা দিয়ে থাকেন। অথচ লীজ গ্রহীতাগন ভাড়া গ্রহীতার নিকট থেকে ২৫/৩০ হাজার টাকা গ্রহন করেন। এসব লীজ গ্রহীতাদের লীজ বাতিল করে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের নিকট বরাদ্দ দেওয়া হউক।

 হযরত শাহজালাল (র:) ও হযরত শাহপরান (র:) গং ৩৬০ আউলিয়ার মাধ্যমে রাজা গৌর গোবিন্দের রাজত্ব চুরমার করে সিলেটে ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্টিত হয়েছিল। তাহাদের কোন উত্তারাধীকারী নেই। যাহারা হযরত শাহজালাল (র:) ও হযরত শাহপরান (র:) এর উত্তরাধীকারী বলে দাবি করিতেছেন তাহারা হয়ত জারজ সন্তান। কথিত আছে সিলেটের প্রথম মুসলমান সৈয়দ বুরহান উদ্দিন (র:)। সুতরাং প্রচার মাধ্যমে কথিত খাদিমরা দাবী করিতেছেন হযরত শাহজালাল (র:) ও হযরত শাহপরান (র:) এর তাহাদের উত্তরাধীকারী। যাহা সিলেটবাসীর নিকট হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।

লেখক, সভাপতি- সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বিয়ানীবাজার, সিলেট। মোবা: ০১৮১৯-১৭৬২১৭

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার

শেয়ার করুন