
মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলমাছড়া বন বিট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বন বিভাগের এক বন প্রহরীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার সকালে আহত বন প্রহরী শেখ আহম্মদ আলী (৫৪) বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় মামলাটি করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে শেখ আহম্মদ আলী ও তার সহকর্মী আব্দুল কালাম তেলমাছড়া বিট এলাকায় নিয়মিত টহলে ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুরমা চা বাগান এলাকায় পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের কাছে থাকা অবৈধ ‘তারগোটা’ বনো ফল নেওয়ার চেষ্টা করে। বন কর্মীরা এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে চুনারুঘাট উপজেলার নোয়াবাদ এলাকার আব্দুল খায়ের (৩৫), আব্দুল আজিজ (৪৫) ও আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন বন কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময়ে অভিযুক্তরা ধারালো দা দিয়ে শেখ আহম্মদ আলীর মাথায় কোপ দেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার হাত, কবজি ও কনুই গুরুতর জখম হয়। পরে আরও কয়েকটি কোপে মাথার বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে।
আহত বন প্রহরীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা আব্দুল আজিজকে আটক করে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে আহত শেখ আহম্মদ আলীকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, গত কয়েক মাস ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সাতছড়ি, তেলমাছড়া ও রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চলে বন কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে বনজ সম্পদ চুরির চেষ্টা করছে। বন রক্ষায় বাধা দিতে গিয়ে বনকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। বনজ সম্পদ রক্ষায় টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবুল কালাম সোমবার সকালে তেলমাছড়া বন পরিদর্শন শেষে বলেন, বনজ সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বন ধ্বংস বা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা জানান, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার