
নিজস্ব প্রতিবেদক:
হবিগঞ্জ জেলার ১০৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সম্ভাব্য পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় কৃষক, চা বাগানের শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষকে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বিজিবি সূত্র জানায়, রবিবার (২৮ জুন) গভীর রাত ও ভোরে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এবং চুনারুঘাট উপজেলার গুইবিল সীমান্ত দিয়ে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই প্রচেষ্টার সময় সীমান্তের সিকিউরিটি লাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক তথ্য এবং বিজিবির দ্রুত টহলের ফলে শূন্যরেখাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ফলে পুশইনের সব অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, এই যৌথ উদ্যোগের ফলে জেলার কোনো সীমান্ত দিয়েই এখন পর্যন্ত পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় পুশইনের চেষ্টা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ৫৫ বিজিবির অধীন ১৬টি সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে উঠান বৈঠক, মাইকিং এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তথ্য দিয়ে বিজিবির কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন, যা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, ‘হবিগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি একা নয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, কৃষক, চা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে সীমান্ত রক্ষায় কাজ করছেন। এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যেকোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে হবিগঞ্জ সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।’
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 992 বার