
নিউজ ডেস্ক:
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল। মাত্র দেড় বছরের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে বিদায় নিয়েছেন ১৫ জন বিচারপতি। তাদের কেউই স্বাভাবিকভাবে অবসরে যাননি। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে ভূমিকা রাখা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় এই বিচারকদের বিদায় নিতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের এমন অপসারণ অন্যদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ বিচারাধীন অবস্থায় পদত্যাগ করে বিদায় নিয়েছেন পাঁচজন বিচারপতি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অপসারণ করা হয়েছে আরও তিন বিচারপতিকে। আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া দুই অতিরিক্ত বিচারপতিকে আর স্থায়ী করা হয়নি। এছাড়া, বিচারকাজে বিরত থাকাকালীন চাকরির বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে অবসরে চলে গেছেন দুই বিচারপতি।
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অনিয়মের অভিযোগে ছুটিতে পাঠানো ১২ বিচারপতির মধ্যে ১০ জন আর বিচারকাজে ফিরতে পারেননি। একজন বিচারপতির বিষয়ে এখনও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত চলমান। একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত করার মতো কোনো আলামত খুঁজে না পাওয়ায় তিনি বিচারকাজে ফিরে এসেছেন। দুই বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান পর্যায়ে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করেছেন।
এখনও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্তাধীন রয়েছে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বিষয়টি। ছুটিতে পাঠানো ১২ বিচারপতির মধ্যে একমাত্র বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি বিচারকাজে ফিরে এসেছেন। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি রেজাউল হাসান সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ ওঠায় ১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তাদের হাইকোর্টের বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণ অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সততা, দলনিরপেক্ষতা এবং স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করা। অতীতের এই ঘটনাগুলো আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।’
‘আমি মনে করি বাংলাদেশে কেউই সার্বভৌম না। সার্বভৌম হচ্ছে একমাত্র বাংলাদেশের জনগণ। সবাই জনগণের সেবার জন্য নিয়োজিত। বিচার বিভাগে বিশেষ করে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি, বিচার বিভাগের নিজেদের স্বাধীনতার জন্য জরুরি। এখান থেকে যদি আমরা শিক্ষা না নিই, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য অনেক বিপদ রয়েছে।’
হাইকোর্ট থেকে বিদায় হওয়া ১৫ বিচারপতি
• বিচারপতি নাইমা হায়দার : সুপ্রিম কোর্টের আলোচিত-সমালোচিত বিচারপতি নাইমা হায়দার গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজ হাতে লেখা ও স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করার ইচ্ছা পোষণ করে প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে তাকে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়।
• বিচারপতি মামনুন রহমান : গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। আইন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি নাইমা হায়দার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা-৮ মোতাবেক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এর আগে, ২ ফেব্রুয়ারি এক বছর ধরে ছুটিতে থাকা বিচারপতি মামনুন রহমান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের ই-মেইলে পাঠানো হয়। কানাডা থেকে তিনি পদত্যাগপত্রটি পাঠান।
• বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনকে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়। ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্টের এই দুই বিচারপতিকে স্থায়ী করেনি ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২২ সালের ৩১ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান ১১ জন। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই নয়জনকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে, বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনকে আরও ছয় মাসের জন্য অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে ছুটিতে পাঠানো ১২ বিচারপতির মধ্যে তারাও ছিলেন।
• বিচারপতি খিজির হায়াত : ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খিজির হায়াতকে অপসারণ করা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ আবু তাহের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬ এর দফা-৬ মোতাবেক হাইকোর্টের বিচারক খিজির হায়াতকে নিজ পদ হতে অপসারণ করা হলো। খিজির হায়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে ১৯৯৭ সালের ৬ আগস্ট ঢাকা জেলা জজ কোর্টে এবং ২০০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৮ সালের ৩১ মে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন।
• বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান : ২০২৫ সালের ২২ মে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে বিচারক পদ থেকে অপসারণ করেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব শেখ আবু তাহেরের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা-৬ মোতাবেক সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে বিচারক পদ থেকে অপসারণ করা হলো। খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ২০১৮ সালের ৩১ মে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হন। ২০২০ সালের ৩০ মে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হন।
• বিচারপতি রেজাউল হাসান : গত ১৩ এপ্রিল দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক বিচারপতি রেজাউল হাসান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা-৮ মোতাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগপত্র পাঠান। রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। গত ৩০ মার্চ বিচারপতি রেজাউল হাসান পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ করা হয়। দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক এ আবেদন করেন। অভিযোগে বলা হয়, ‘বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। এক মামলায় সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত না থাকলেও রায়ে তার নামে যুক্তিতর্ক উল্লেখ করা হয়, যা পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়। অন্য মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে পক্ষ না করেই তার ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা করা হয়, যা আবেদনকারীর দৃষ্টিতে ন্যায়বিচারের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’
• বিচারপতি আক্তারুজ্জামান : ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট অনিয়মের অভিযোগে ছুটিতে পাঠানো হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামান পদত্যাগ করেন। তিনি জেলা জজ থাকাকালীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছিলেন। গত বছরের ২৬ আগস্ট অনিয়মের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে ছুটিতে পাঠানো হয় আক্তারুজ্জামানকে। পরে তার বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন হয়।
• বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার : ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলমকে অপসারণ করা হয়। অপসারণের কারণ হিসেবে বলা হয়, তিনি বিচারিক দায়িত্ব পালনের অযোগ্য হয়ে পড়েছেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার তার পদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন বলে রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের পুনর্বহাল হওয়া ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা-৬ বিধান অনুযায়ী ৫ নভেম্বর তাকে ওই পদ হতে অপসারণ করেছেন। খুরশীদ আলম সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর স্থায়ী হয় তার নিয়োগ। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর ‘দলবাজ ও দুর্নীতিবাজ’ ও ‘ফ্যাসিস্ট’ বিচারপতিদের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে গত বছরের ১৬ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের প্রেক্ষাপটে খুরশীদ আলমসহ ১২ বিচারপতিকে ২০ অক্টোবর বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়।
• বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন : ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ছুটিতে পাঠানো হয় হাইকোর্টের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনকে। তিনি কানাডা থেকে পদত্যাগপত্র পাঠান। এর আগে গোপনে তিনি কানাডা পাড়ি জমান। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়, বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান অবস্থায় তিনি পদত্যাগ করেন।
• বিচারপতি আতাউর রহমান খান ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর শেখ হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ ওঠায় যে ১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয় তাদের মধ্যে ছিলেন এই দুই বিচারপতি। ছুটিতে থাকা অবস্থায় চাকরির বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তারা অবসরে চলে যান।
• বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক : নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হাইকোর্টের এই তিন বিচারপতি ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর পদত্যাগ করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব (চলতি দায়িত্ব) শেখ আবু তাহেরের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক সংবিধানের ৯৬ (৪) অনুচ্ছেদ মতে রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এই তিন বিচারপতিকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 991 বার