
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ ও মাজারের ৬টি দানবাক্স দ্বিতীয় দফায় খোলা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সোয়া ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে মাজারের ডেগ ও দানবাক্স খোলা হয়। পরে ১১টা ২৮ মিনিটে টাকা গণনা শুরু হয়। টাকা গণনা কাজে সহযোগীতা করছেন দরগাহ মাদরাসার অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী।
টাকা গণনায় উপস্থিত রয়েছেন মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন–সংক্রান্ত কমিটির নেতৃবৃন্দ।
এর আগে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক দানের ডেগে জমা হওয়া টাকা গণনা করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে মাজারের দানবাক্সে তালা দিয়ে চারদিন পর টাকা গণনা করা হয়েছিল। চারদিনে দানবাক্সে পাওয়া গিয়েছল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে অর্থগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১২ জুন প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ এবং একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের অর্থ পুনরায় গণনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
শনিবার দ্বিতীয় দফা টাকা গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
জানা গেছে, দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ ভক্ত, অনুরাগীরা প্রতিদিনই হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে আসেন। বৃহস্পতিবার, শুক্রবার, শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে প্রচুরসংখ্যক মানুষ এখানে আসেন। এ সময় তারা টাকাসহ নানা সম্পদ মাজারে দান করেন। তবে মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে কখনোই দানের হিসাব প্রকাশ্যে গণনা করা হয়নি।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার