Daily Jalalabadi

  সিলেট     সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৯শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবশেষে সিলেটের ডিসির চেয়ারে বসছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন

admin

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
অবশেষে সিলেটের ডিসির চেয়ারে বসছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে সিলেটে নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কর্মস্থলে আসছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। সোমবার (১৩ জুলাই) সিলেট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এর আগে রবিবার (১২ জুলাই) রাতে তিনি ঢাকা থেকে সিলেটে আসবেন বলেও জানা গেছে।

রবিবার (১২ জুলাই) রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি সিলেটে পৌছাননি বলে জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন।

তিনি জানান, সোমবার (১৩ জুলাই) সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে রবিবার (১২ জুলাই) তার সিলেট আসার কথা থাকলেও রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি সিলেটে এসে পৌছান নি।

তিনি আরও বলেন, নতুন জেলা প্রশাসক সিলেটে পৌছালে আগামীকাল সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে বসবেন। এরপূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা যায়, সিলেট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পদে মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে চারজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হলেও এখন পর্যন্ত কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। গত ২১ জুন ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রথমে কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ফিরে যান এবং পরে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ৯ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, তিনি ১২ বা ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে যোগ দিতে পারেন, তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

এভাবে মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে সিলেটের জেলা প্রশাসক পদে চারজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হলেও এখনো কার্যত শূন্য রয়েছে জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক এই পদ।

প্রসঙ্গত, সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কারণে তিনি সিলেটজুড়ে আলোচনায় ছিলেন। বিশেষ করে তিনি পাথর লুটপাট কাণ্ডের সময় সিলেটে যোগদান করেন এবং এর পর থেকে কয়েক লক্ষ ঘনফুট সাদাপাথর প্রতিস্থাপন করেন। এর পর সিলেটের বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে তিনি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। গত ১২ জুন তিনি দুই মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়।

দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা নিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। একদিকে অনেকেই এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান, অন্যদিকে প্রশাসনের মাধ্যমে দান ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সমালোচনাও করেন অনেকে। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রত্যাহারের আদেশ জারির একদিন পরই সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার

শেয়ার করুন